মো. দিদারুল আলম দিদার। একজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি। ১০ হাজার টাকায় মানুষ খুন করেন তিনি। অস্ত্র চালনায় বিশেষ পারদর্শিতায় খুব দ্রুতই নজরে আসেন চট্টগ্রামের অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের। সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া ডেভিড ইমন (গ্রেপ্তার) ও মোহাম্মদ রায়হানের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন দিদার। ক্রমান্বয়ে ডাক পড়তে থাকে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে।
পুলিশ বলছে, দিদার এ জন পেশাদার ভাড়াটে খুনি। তিনি গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যায় অংশ নেন। ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তাকে ঘটনাস্থলে পিস্তল হাতে দেখা গেছে। দিদারের বিরুদ্ধে আছে হত্যাসহ ১৩টি মামলা। মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় মানুষ খুন করেন। গত রবিবার দিদার ও তার সহযোগী আবছার মিয়াকে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার দিদার রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান শমশেরনগর বেপারীপাড়ার সাহাব উদ্দিনের ছেলে। অপর আসামি আবছার মিয়াও একই এলাকার মৃত অছিউর রহমানের ছেলে। এর আগে ১৩ জুন যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন, ধামা ইলিয়াছ ও সবশেষ গত রবিবার দিদার ও আবছার মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় ভেঙে পড়েছে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের দুর্গ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে দিদারের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাকে একজন ‘সুপার কিলারও’ বলা যায়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদকে হত্যার ঘটনায় দিদার ও আবছার সরাসরি অংশ নেন। দুজনই এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দিদার ভাড়াটে খুনি। চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান, ডেভিড ইমন ও ধামা ইলিয়াছের সঙ্গে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ সংঘটনে অংশ নিতেন দিদার ও আবছার। মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় মানুষ খুন করেন দিদার। এক প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, হাটহাজারীর আলোচিত নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিও দিদার। গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর খলিফাপাড়া এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।