ওয়েলসের পর ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার সার্বিয়া-সুইডেনেরও

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় এখন রীতিমতো ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এবং একের পর এক অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারির জেরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সিংহাসন। বিশ্বমঞ্চের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের টেনে আনার অবাস্তব ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত।

যার ফলস্বরূপ, আসন্ন ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি একে একে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ইউরোপের প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনগুলো।

বিশ্বকাপের স্বত্ব ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার যে পরিকল্পনা ইনফান্তিনো করেছিলেন, তা স্টেকহোল্ডারদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে গত শুক্রবার পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে ইউরোপের ফুটবলের নীতিনির্ধারকেরা।

উয়েফা এবং কনকাকাফের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলো আগেই ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা হারানোর কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। এর রেশ ধরে একে একে বিদ্রোহী হয়ে উঠছে সদস্য দেশগুলো। সবার আগে শক্ত অবস্থান নেয় ওয়েলস; প্রথম কোনো জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন হিসেবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে কড়া ভাষায় শনিবার ওয়েলস এফএ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে যে চরম ব্যর্থতা দেখা গেছে, তাতে বিশ্ব ফুটবলের হাল ধরার মতো আর কোনো নৈতিক অবস্থান বা আস্থা ইনফান্তিনোর নেই।’

ওয়েলসের পথ ধরে একই পথে হাঁটে সার্বিয়া ও সুইডেন ফুটবল ফেডারেশনও। এক বিবৃতিতে সার্বিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘ফিফা ও এর প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার পর ইনফান্তিনোকে সমর্থন প্রত্যাহার করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো যৌক্তিক পথ খোলা ছিল না।’

সুইডেন ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও সুশাসন ও নেতৃত্বের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। একই সাথে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) এই স্রোতে যোগ দিয়ে সমর্থন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের সূত্রমতে, নিজের পদ রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করছেন ফিফা প্রধান। এছাড়া নিউইয়র্ক পোস্টের খবর অনুযায়ী, প্রস্তাব পাসের চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো। গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণায় নিজেকে কোণঠাসা মনে করা ফিফা বস এখন রাজনৈতিক বা বড় কোনো শক্তির সমর্থন পেতে ব্যাকুল।

২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার মসনদে বসার পর থেকে ইনফান্তিনো মূলত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের চতুর্থ দফার এই নির্বাচনে তার জয় একরকম নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে এই আকস্মিক ধাক্কা ও ইউরোপীয় ফুটবলের বিদ্রোহ তার পথকে করে তুলেছে কন্টকাকীর্ণ। আগামী মার্চে মরক্কো কংগ্রেসে বসার আগেই ফিফার অন্দরের এই অসন্তোষ ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড় এক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।