নাটোরের গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় ৮ বিঘা আয়তনের খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) ও খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নতুনকুঁড়ি’ কর্মসূচি এবং প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৮ মে জাতীয়করণ করা হয়। একই মাঠ ব্যবহার করে গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের উত্তর-পূর্ব অংশে পানি জমে রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে পানি না থাকলেও কাদা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মাঠে পানি নিষ্কাশনের কোনো নালা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের পানি এসে জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জুন-জুলাইজুড়ে মাঠ কাদা ও পানিতে ডুবে থাকায় অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে খেললেও কোনো ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতান আরেফিন বলেন, 'মাঠ কাদা ও পানিতে ডুবে থাকায় ছোট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। অনেক সময় তারা পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট করে ফেলে। এতে উপস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে।'
শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠ ব্যবহার করতে না পারায় তারা অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ক্লাসের ফাঁকে মাঠে সময় কাটানোর সুযোগও নেই। দ্রুত মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, 'পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা প্রয়োজন।'
উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান বলেন, মাঠটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, স্থানীয় তরুণদেরও নিয়মিত খেলাধুলার কেন্দ্র। জলাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি সম্প্রতি মাঠ পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ দেশ রূপান্তরকে জানান, মাঠ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় মাঠটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও আবেদন পাঠানো হয়েছে।