জুলাইযোদ্ধা আহাদের বাম চোখ আজও অকেজো

সম্মুখ সারির জুলাইযোদ্ধা আহাদ হুসাইনের বাম চোখে বুলেট বিদ্ধ হওয়ার এক বছর পরও তা অকেজো হয়ে আছে। পাঁচবার অস্ত্রোপচার করেও চোখের দৃষ্টি ফেরেনি। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের পৈত্রিক জমি বিক্রি করতে হয়েছে। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা আহাদের জীবন এখন থমকে গেছে দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তায়।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে আহাদ হুসাইন অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। সে সময় তিনি রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় থাকতেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবির কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আহাদ হুসাইনের বাম চোখে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের বেডে দেখতে পান।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার বাম চোখে পাঁচবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে এত চিকিৎসার পরও তিনি ওই চোখে দেখতে পান না। এক চোখ হারানোর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা আজও বহন করে চলেছেন তিনি।

চোখের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারকে পৈত্রিক জমি বিক্রি করতে হয়েছে। পরে সরকার থেকে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও পরিবারের দাবি, চলমান চিকিৎসার তুলনায় সেই সহায়তা অপ্রতুল। বর্তমানে ঢাকার ধানমন্ডির ভিশন আই হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে।

আহাদ হুসাইনের বড় ভাই মুরাদ হোসেন জানান, পৈত্রিক জমি বিক্রি করে পাঁচবার চোখের অপারেশন করানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আহাদের চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান ও ডা. মাসুদ হাসান তাদের জানিয়েছেন, আহাদের বাম চোখের কর্নিয়া, লেন্স ও রেটিনা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া গুলিটি চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরের একটি শিরা স্পর্শ করে অবস্থান করছে। এ কারণে অস্ত্রোপচার করে গুলিটি বের করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, আহাদের আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।