হারতে হারতে ৩০ বছর! তবুও দ্বিতীয় বিভাগে ওঠার স্বপ্ন

উরুগুয়ের ফুটবলে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি কিছু অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর গল্পও লুকিয়ে রয়েছে। তেমনই এক গল্পের নায়ক ৬২ বছর বয়সী হোসে লুইস দে লা কিনতানা। পেশায় একজন পার্কিং অ্যাটেনডেন্ট দে লা কিনতানা গত ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে উরুগুয়ের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব আলতো পেরুর হাল ধরে আছেন।

১৯৯৬ সালের ৪ আগস্ট ক্লাবটির প্রধান কোচ হিসেবে তার অভিষেক হয়েছিল। আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে জয়ের মধ্য দিয়েই তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ক্লাবের রেকর্ড চোখ কপালে তোলার মতো।

  • টানা জয়হীন ম্যাচ: উরুগুয়ে লিগে টানা ৭৬টি ম্যাচ জয়হীন আলতো পেরু (১৪টি ড্র, ৬২টি হার)।

  • শেষ লিগ জয়: ২০১৯ সালের ২০ জুলাই (আর্তিগাসের বিরুদ্ধে ৫-২ ব্যবধানে)। সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে লিগে কোনো জয় নেই দলটির।

  • ক্লাবে পদবী: দে লা কিনতানা একই সাথে দলের প্রধান কোচ, ক্লাবের সভাপতি এবং মাঠের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।

ভক্ত ও স্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকদের একাংশের কাছে আলতো পেরু এখন এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। নিজস্ব কোনো স্টেডিয়াম নেই, কোনো স্থায়ী ক্লাব ঘর বা অনুশীলন কেন্দ্র নেই। প্রাক্তন খেলোয়াড়রা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে বিখ্যাত ছায়াছবি 'দ্য হাঙ্গার গেমস' বা স্বৈরাচারী শাসনের সাথে তুলনা করেছেন।

তবে এসবে কান দিতে নারাজ দে লা কিনতানা। নিজের সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "যদি ঘরে কোনো সমস্যা থাকে, তবে কি আপনি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাবেন? ফুটবলে হার-জিত থাকবেই, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকতা। আমার বয়সের ছাপ আমার চিন্তায় নেই। যেদিন আমার কাজ করার ইচ্ছা বা শক্তি হারিয়ে যাবে, সেদিন সরে দাঁড়াবো।"

উরুগুয়েতে আধুনিক কর্পোরেট স্পোর্টস লিমিটেড কোম্পানি-এর অধীনে অনেক ছোট ক্লাব এখন প্রথম বিভাগে খেলছে। আলতো পেরুকেও কিনতে চেয়েছিল একাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ১৯৪০ সালে শ্রমজীবী ও নৈরাজ্যবাদী যুবকদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের শতবর্ষী 'পাড়ার ঐতিহ্য' ও মূলনীতি বিসর্জন দিতে রাজি নন দে লা কিনতানা।

দৈনন্দিন জীবনে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে পার্কিং লটে ডিউটি শেষে বিকেলে অনুশীলনে নামেন এই কোচ। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন না একদিন আলতো পেরু আবারও জয়ের ধারায় ফিরবে এবং নিজেদের হারিয়ে যাওয়া পরিচয় পুনরুদ্ধার করবে।