আর্জেন্টিনার মতো উরুগুয়েকেও হারানো হলো না সৌদির

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এইচ’ -এর উদ্বোধনী ম্যাচে দুই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণী ভুলে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেনসের মায়ামি স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলেন ফুটবলপ্রেমীরা। যেখানে উরুগুয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ আর সৌদি আরবের ধৈর্যশীল রক্ষণভাগের এক দারুণ কৌশলগত লড়াই দেখা গেছে।

অভিজ্ঞ মুসলেরার ভুলে সৌদি আরবের লিড

ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের কৌশলগত লড়াইয়ে উরুগুয়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় সৌদি আরব। আর এই গোলের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে উরুগুয়ের ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার নাম। ১৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকা গোলরক্ষক সৌদি আরবের একটি শট গ্রিপে নিতে না পেরে সোজা ডেঞ্জার জোনে ঠেলে দেন। সেখানে ওত পেতে থাকা সৌদি আরবের ডিফেন্ডার আবদুলইলাহ আল-আমরি সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করে বল জালে জড়ান। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সৌদি আরব।

আল-ওয়াইসের বীরত্ব ও শেষ মুহূর্তের ট্র্যাজেডি

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পুরো ম্যাচ রূপ নেয় ‘উরুগুয়ে বনাম সৌদি গোলরক্ষক’ লড়াইয়ে। উরুগুয়ের একের পর এক আক্রমণে সৌদি গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। পুরো ম্যাচে মোট ৯টি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি, যার মধ্যে ৬টিই ছিল দ্বিতীয়ার্ধে।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে এসে আল-ওয়াইসও খেই হারিয়ে ফেলেন। মাঠের ঘাসে ড্রপ খাওয়া একটি শট অস্বস্তিকরভাবে ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল তুলে দেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড মাক্সি আরাউহোর পায়ে। অত্যন্ত নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান আরাউজো।

ম্যাচ শেষে নিজের ভুল স্বীকার করে আল-ওয়াইস বলেন, 'বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুই দলের পক্ষ থেকেই এমন ভুল হওয়া স্বাভাবিক। উরুগুয়েও মূলত দ্বিতীয়ার্ধেই নিজেদের চেনা ফর্মে ফিরেছে। প্রথম ম্যাচ হিসেবে আমরা মাঠের পরিবেশ ও সামগ্রিক পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।"

বিয়েলসার আক্রমণাত্মক কৌশল বনাম গ্রিক কোচের রক্ষণভাগ

ম্যাচটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক কোচ উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ সৌদি আরবের গ্রিক কোচ জর্জিস দোনিসের মধ্যকার এক দাবা খেলা।

বিয়েলসার ‘হাই প্রেস’ ফুটবল: ম্যাচের আগের দিনই বিয়েলসা তাঁর আক্রমণাত্মক ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই উরুগুয়ে বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সৌদিকে তাদের নিজেদের অর্ধেই চেপে ধরে।

সৌদির ধৈর্য ও কাউন্টার অ্যাটাক: সৌদি আরব শুরু থেকেই রক্ষণভাগ জমাট রেখে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের ওপর চাপ তৈরি করার অপেক্ষা করছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দু-একটি ভালো কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই মূলত তারা উরুগুয়ে শিবিরে ভীতি ছড়ায় এবং কর্নার আদায় করে গোল করতে সক্ষম হয়।

উরুগুয়ের ২৯ শট, সমতায় সন্তুষ্ট দুই দলই

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করতে মরিয়া উরুগুয়ে যেন সৌদি আরবের ডিবক্সের সামনে তাঁবু গেঁড়ে বসেছিল। মুসলেরা ছাড়া উরুগুয়ের বাকি ১০ জন খেলোয়াড়ই অল-আউট আক্রমণে যোগ দেন। ম্যাচে উরুগুয়ে সব মিলিয়ে গোলমুখে মোট ২৯টি শট নেয়।

অতিরিক্ত ৭ মিনিটের শেষ সেকেন্ডেও উরুগুয়ে কর্নার পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সৌদি আরব। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর এবার উরুগুয়েকে হারিয়ে আরেকটি ল্যাটিন আমেরিকান পরাশক্তিকে বধ করার স্বপ্ন দেখছিল সৌদি আরব, কিন্তু মায়ামির তীব্র গরমে শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দুই দলকেই।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত