ঢাবি উপাচার্য

গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক উপদেষ্টা ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বিশেষ বক্তা ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রোয়ান উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম।

উপাচার্য বলেন, গত দেড় দশকে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, নীতির প্রশ্নে আপস না করায় তাকেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার কারণে তিনি দৃঢ় থাকতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশে একক সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতা থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং জনগণের অংশগ্রহণ দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকলে চলবে না। এই চেতনা আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং শিক্ষাঙ্গনে ধারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য কিংবা স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।