পিকেএসএফ–দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস গোলটেবিল বৈঠক

বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান

নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, উন্নয়নকর্মী, মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারী এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার সমন্বিত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, কর্মসংস্থান উপযোগী গ্র্যাজুয়েট এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।  
 
সোমবার রাজধানীর পিকেএসএফ ভবন-১-এ দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও পিকেএসএফ যৌথভাবে আয়োজিত ‘Linking Skills with Employment: Challenges and Way Forward’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শিল্পখাতনির্ভর এবং চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।  
 
সভায় সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দক্ষতার স্বীকৃতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আরও কার্যকর প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বিদেশগামী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে Accreditation Body হিসেবে পিকেএসএফ-কে বিবেচনা করার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 
পিকেএসএফ-এর RAISE প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী মশরুর-উল-আলম বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও দক্ষতা উন্নয়নকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম এখনো তৈরি হয়নি। অনুষ্ঠানে RAISE প্রকল্পের একজন শিক্ষানবিশ আশফাকুর রহমান প্রকল্পের প্রশিক্ষণের পর কীভাবে তিনি হুন্দাই বাংলাদেশ-এ সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।  
 
বিশ্বব্যাংকের RAISE প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার আনিকা রহমান বলেন, প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে; বাংলাদেশকে প্রচলিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
 
আলোচনায় বক্তারা দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, কার্যকর শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা, শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ এবং মেশিন লার্নিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, ও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
বক্তারা বলেন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদারে সমন্বিত, চাহিদাভিত্তিক ও শিল্পখাতনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।  
 
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়েজ আর্নার্স’ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড. এ.টি.এম. মাহবুব-উল-করিম; ইউসেপ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আবদুল করিম; ইএসডিও-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ শহীদ উজ জামান; পিকেএসএফ-এর পরিচালনা পর্ষদ সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ তৌফিকুল ইসলাম; অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ)-এর কামরুল হক মারুফ; পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মশিয়ার রহমান; এবং অতিরিক্ত সচিব ও এসআইসিআইপি-এর নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক, মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ব্র্যাক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।