১৯০৮ সালের ৩০ জুন, রাশিয়ার সাইবেরিয়ার তুংগুস্কা অঞ্চলে এক রহস্যময় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি প্রায় ২,২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংস করে এবং প্রায় ৮০ মিলিয়ন গাছ উপড়ে ফেলে। বিস্ফোরণের ধাক্কা ১,০০০ কিলোমিটার দূরের বাড়িঘরের জানালা ভেঙে ফেলে। ওই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ধাক্কা বা শকওয়েভ বহু দূর থেকে অনুভূত হয়েছিল এবং এর তীব্র আলো ও শব্দ আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি একটি উল্কাপিণ্ড বা ধূমকেতুর বিস্ফোরণের ফলে ঘটেছিল, যা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরই ৫-১০ কিলোমিটার ওপরে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শক্তি প্রায় ১০-১৫ মেগাটন টিএনটি-এর সমান ছিল, যা হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ১,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এ ধরনের বিস্ফোরণ থেকে নির্গত বিকিরণ শক্তি বনভূমিতে আগুন ধরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু পরবর্তী বিস্ফোরণ তরঙ্গ দ্রুত সেই আগুনকে ছাড়িয়ে গিয়ে নিভিয়ে দিয়েছিল। তাই তুংগুস্কা বিস্ফোরণে বন ঝলসে গেলেও কোনো দীর্ঘস্থায়ী আগুনের সৃষ্টি হয়নি।
তুংগুস্কা বিস্ফোরণের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, কোনো বড় গর্ত বা ক্র্যাটার পাওয়া যায়নি। এর ফলে অনেকে দাবি করেন যে, এটি কোনো ভিনগ্রহী মহাকাশযানের বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো রহস্যময় ঘটনা হতে পারে। তবে আধুনিক গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি মহাকাশ থেকে আসা একটি বস্তুই ছিল। তুংগুস্কা বিস্ফোরণ আজও এক বিস্ময় হিসেবে থেকে গেছে এবং এটি আমাদের মহাকাশীয় ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সচেতন করেছে। তুংগুস্কা বিস্ফোরণ রাশিয়ায় এখনো গবেষণা হয়, নতুন আর কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও এ নিয়ে গবেষণা প্রক্রিয়া থেমে নেই।