বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব রূপে তুলে ধরতে এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে খাতসংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা হাত উঁচু করে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার জানান দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব, অফিস বেয়ারার, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরাসরি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিশ্বব্যাপী নতুন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
পরে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ বিবৃতি বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলোÑ বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণ করা।
এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইভেন্ট অর্গানাইজারের সহযোগিতায় বিশ্বমানের ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিআইটিএমএ) আয়োজন করা হবে, যা অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই ফ্যাশন ধারার এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটাবে।
বিবৃতিতে সমঝোতা স্মারকের মূল দিকসমূহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রদর্শনীর পরিচালনা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী যৌথ কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ পাঁচজন করে সম-প্রতিনিধিত্ব থাকবে; কমিটির চেয়ারম্যানশিপ প্রতি বছর দুই সংগঠনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হবে। প্রথম বছর বিটিএমএ থেকে চেয়ারম্যান এবং বিজিএমইএ থেকে কো-চেয়ারম্যান মনোনীত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গ্রিন টেকনোলজির যে বিপ্লব ঘটছে, বাংলাদেশকে তার অগ্রভাগে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিটিএমএ এবং বিজিএমইএর এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা আমাদের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং এথিক্যাল ও পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বিশ্বস্ত হাব হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’