বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গভর্নর

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তায় বিদ্যমান দুর্বলতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ। আর্থিক খাতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ব্যাংকগুলোকে তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সব সময় সতর্ক ও উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেনের পরিধি যত বাড়ছে, সাইবার হামলার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। তাই ব্যাংকগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকই প্রথম সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) স্থাপন করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকে পৃথকভাবে ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থা (ডিজিটাল ওয়াল) চালু করা হয়েছে। ব্যাংক এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সনদ পিসিআই ডিএসএস কমúøায়েন্স সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এসওসিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। সাইবার ঝুঁঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে কাজ করছে জনতা ব্যাংক।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’