জুলাই অভ্যুত্থানে ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলাগুলোর বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেছেন, এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে যে মামলাগুলোর বিচার ও রায় হয়েছে, তা স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যে ছয়টি মামলার বিচারকার্য আমরা শেষ করতে পেরেছি, এইটা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এবং পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এর চেয়েও যদি দ্রুত বিচারকার্য করেন, তাহলে এই বিচার নিয়ে জনগণের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, তাই এটি স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে।’
তিনি জানান, আসামি ওবায়দুল কাদেরের মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি চলছে । মাহবুব উল আলম হানিফের মামলায়ও যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন হতে পারে। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী এলাকায় তাইম হত্যাকান্ডের মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে। আরও কয়েকটি মামলা কিন্তু বিচারকার্যের প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষী প্রায় শেষ পর্যায়ে আমরা আছি, আর খুব বেশি সময় নেব না।
তিনি জানান, এরই মধ্যে কক্সবাজারে কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলার এবং শাপলা চত্বরের বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া জুলাইয়ের বিচারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি গুম এবং ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ১২টি মামলার প্রতিবেদন আমরা দিয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করছি; আরও কয়েকটি বাকি আছে, যেগুলো কয়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দেব।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মামলাগুলো খুব দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে সম্ভাব্য আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে অন্তত জুলাইয়ের সমস্ত বিচার আমরা শেষ করতে পারি, সেই বিষয়ে আমরা একটা কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সারা দেশে ক্রসফায়ারের ৩ হাজারের বেশি ঘটনা ঘটেছে, সে মামলাগুলোর অনেকগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।