দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ চার ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইপক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও ছাত্রদল হামলা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেখানেও উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
গত সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের একটি জুলাই প্রদর্শনী অনুষ্ঠান থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের শুরু হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে জবিতে দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন অনুষ্ঠানে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। পরে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হলের সিট নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ঢাকা কলেজে জুলাই আলোচনা সভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
জবিতে সংঘর্ষ : জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরুসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে ছাত্রদল ও জকসু প্রতিনিধিদের বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল, জকসু-ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সংষর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ছয়জনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেও হামলা করে ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ন্যাশনাল মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মকবুল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ৫০ জন এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১৫ থেকে ২০ জন এখনো চিকিৎসাধীন। বেশির ভাগেরই মাথায় আঘাত ছিল। গুরুতর আঘাত পাওয়া চার থেকে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেনসহ জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান জবিতে আসায় তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদল ক্যাডাররা।
এদিকে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলনে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ছাত্রদল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে রাজনীতির চেষ্টা করলেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হল দখল শুরু করেছে। আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। তারই অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য শিবির পুরো দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত করছে।
জবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন : জবির ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
হলের সিট নিয়ে সংঘর্ষ ঢাকা আলিয়ায় : এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুইপক্ষের ৩৮ জন আহত হয়েছে। তার মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ অন্তত সাতজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা হলেন অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক, মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ, লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ, সমকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জানে আলম ও মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন মমিন।
আহত রাব্বি অভিযোগ করেন, তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসা চত্বরে বসে থাকাকালে অতর্কিত হামলার শিকার হন। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত ও বাম হাতে চোট লেগেছে। সাংবাদিক নাজমুলের পায়ে ইটের আঘাত এবং অধ্যক্ষ মাহমুদের মাথায় আঘাত রয়েছে।
আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলিম অভিযোগ করে বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলে ঢুকে শিবিরের নেতাকর্মীদের মারধর করে হলের বেশ কয়েকটি রুমে তালা দেয়। এরপর তারা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেন। পরে ছাত্রদল আবার দলবল নিয়ে এলে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে তাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির হলের বেশ কয়েকটি রুম দখল করে রেখেছে। গতকাল নতুন করে শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের একটি রুম তালাবদ্ধ করে রাখে। এতে তাদের সঙ্গে মারামারি শুরু হয়। ছাত্রদল-যুবদলের ১৮ জনের মতো আহত হয়েছে।
জুলাই অনুষ্ঠানে বাধা, ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শাখা ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজে আলোচনা সভার আয়োজন করলে তাতে বাধা দিতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে হামলার পর ছাত্রদল শোডাউন বের করে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অর্থসম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের নিখোঁজ আছেন অন্তত ৫ জন। পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, শিবির সুপরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। আমরা নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এখানে অবস্থান নিয়েছি। সন্ত্রাসীদের কোনো কার্যক্রম এ ক্যাম্পাসে হবে না।
যুদ্ধাপরাধের ছবি প্রদর্শন ঘিরে বেরোবিতে সংঘর্ষ : ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত ও বিএনপি নেতার ছবি প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষে হয়। গত সোমবার রাতের ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এদিকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বেরোবি ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানানো হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ছবি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করায় তারা আপত্তি জানান। অভিযোগ ওঠে বাগবিত-ার একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় শিবির। সংঘর্ষ ক্যাম্পাস থেকে সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
অন্যদিকে শিবিরের দাবি, তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ছেড়ে দিতে চাইলেও ছাত্রদল হঠাৎ আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়। তবে ১৪৪ ধারা ভেঙে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজমান। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ইউটিএলের উদ্বেগ : গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংঘর্ষের ঘটনায় যা বলল ছাত্রদল : গতকাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে ছাত্রশিবির। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রশিবিরের ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী জোরপূর্বক প্রবেশ করে অনুষ্ঠান ভ-ুলের চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান ও ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় বাধা দিলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল দাবি করে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সহিংসতা, অনলাইনে জামায়াত-শিবির নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং দেশব্যাপী সংঘাতমুখী কর্মকা-ের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি ঘটেছে।
ছাত্রশিবিরের নিন্দা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল-যুবদলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে এবং বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগ পেলে ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিশের : ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, জবিতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠানো হয়। পুলিশ জবির ক্যাম্পাস এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এদিকে ঢাকা আলিয়ায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। রাত ৯টায় দুই স্থানেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই স্পটে দুই পক্ষের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।