দেশের অধিকাংশ স্টেডিয়ামের মালিক ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আবারও অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায়। স্টেডিয়ামের ভাঙাড়ি মালামাল বিক্রি কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন স্টেডিয়ামের ভাঙাড়ি বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের খবর সামনে এসেছে। এবার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের স্টাফ কোয়ার্টারের অকেজো টিন বিক্রিকে ঘিরে। এ ঘটনায় এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রশাসন অধিশাখা থেকে গত ১৩ জুলাই জারি করা (স্মারক নম্বর ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৩.১৮.০০০১.২১.৭২) নোটিসে বলা হয়েছে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের স্টাফ কোয়ার্টারের অকেজো ভাঙাড়ি টিন বিক্রি বাবদ স্থানীয় ব্যক্তি মমিন আলীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে স্টাফ কোয়ার্টারের পুরনো টিন ও অন্যান্য ভাঙাড়ি বিক্রির জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই জাকির হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মমিন আলীর সঙ্গে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায় টিন বিক্রির চুক্তি করেন এবং অগ্রিম অর্থও গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ এনএসসির অনুমোদন ছাড়া স্টেডিয়াম থেকে কোনো ভাঙাড়ি মালামাল বের করার সুযোগ নেই।
অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে একটি মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডের কথা উল্লেখ করেছে এনএসসি। ওই অডিওতে জাকির হোসেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সাজিয়া আফরিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে অর্থ নেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্তে সাজিয়া আফরিন এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে জাকির হোসেনকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি। কর্র্তৃপক্ষের মতে, তার এই কর্মকা- জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে এবং এটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৯৫-এর বিধি ৩৭-এর ১(গ) এবং বিধি ৩৮-এর (খ) ও (গ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর জাকির হোসেনকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সরিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিলাম। তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন। সেই জবাব এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হয়, তাহলে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এমন ঘটনার পর তাকে আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছি, যাতে জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে কম আসতে পারে।’
ফতুল্লা স্টেডিয়ামের ভাঙাড়ি বিক্রি কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগ আবারও প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রীড়াঙ্গনের।