২০০৩ সালের পর আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর যখন লাল বলের বনেদি সংস্করণে খেলতে সে দেশে পা রেখেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তখন ১৬ সদস্যের দলে এমন কেউ নেই, যে আগের সফরের অভিজ্ঞতা ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে শেয়ার করবেন বা উইকেট-কন্ডিশনের বর্ণনা দেবেন।
সেবারের মতো এবারও বাংলাদেশ দল প্রথম টেস্ট খেলবে ডারউইনে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন যাওয়ার আগে জানান, এই ভেন্যু সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই তাদের কাছে। যদিও এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক কিছুই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। তবে যে ভেন্যুতে ২০০৪ সালের পর আর কোনো টেস্টই হয়নি, তার সম্পর্কে আর কী-ই বা জানা যাবে। তবে দেশের যে কয়েকজন ক্রিকেটারের ডারউইনে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাদের একজন হান্নান সরকার। সাবেক এই ক্রিকেটার এবার নিজ দেশের ব্যাটারদের সতর্ক করলেন, ‘পেসাররা প্রলোভন দেখাবে, কিছু শট খেলার বল দেবে। তবে শুরুতে যার বল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও ধৈর্য ভালো থাকবে, তার জন্য টিকে থাকা সহজ হবে। ব্যাটাররা যদি নিশ্চিত থাকে যে, কোন বলটা ছাড়তে হবে আর কোনটা খেলতে হবে, তবে বড় রান করা সম্ভব।’
পেশাদার ক্রিকেটের পাট চুকিয়ে নির্বাচক থেকে এখন কোচিংয়ে মন দিয়েছেন হান্নান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ তিনি। সাবেক এই ওপেনার ডারউইনে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। ওই সফরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিকও তিনি। সে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গতকাল মিরপুরে হান্নান বলেন, ‘আমার মনে হয়, ২০০৩ সালের মতোই এবারও বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। যদিও আমাদের এখনকার ব্যাটাররা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। বড় একটি সুবিধা হলো, ব্যাটাররা এখন ওদের বোলারদের সম্পর্কে অনেক ভালো জানে, ভিডিও অ্যানালাইসিস করার সুযোগ আছে। ২৩ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট যেখানে এসে পৌঁছেছে, আমি বিশ্বাস করি, দল যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে এবং ২০০৩ সালের চেয়ে ভালো করবে।’
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে কাজ সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করেন হান্নান, ‘টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে এর মেজাজটা বুঝতে হবে। আমাদের তরুণদের সেই সামর্থ্য আছে, তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ বা জাতীয় ক্রিকেট লিগে নিয়মিত বড় ইনিংস খেলে তা প্রমাণ করেছে। এখন মূল বিষয় হলো আন্তর্জাতিক কন্ডিশন ও বোলারদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।’
২০০৩ সালে ডারউইনে বাংলাদেশের মতো নবীন দলের বিপক্ষে সম্ভাব্য সেরা দলটাই খেলিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারও একই পথে হেঁটেছেন স্বাগতিকরা। ১৩ সদস্যের দলে তারকার ছড়াছড়ি। প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়নরা সফরকারী ব্যাটারদের পরীক্ষা নেবেন। অস্ট্রেলিয়ার এই বোলিং আক্রমণকে অনেকেই সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ মনে করেন। তাদের মুখোমুখিই হতে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেনরা।
পেসারদের সমীহ করে স্পিনের বিপক্ষে রান তোলার পরামর্শ দিলেন হান্নান, ‘ড্রাইভিং সøটের বলগুলোতে খুব সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এ ধরনের বাউন্সি উইকেটে ড্রাইভিং খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখানে বলের মুভমেন্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাউন্স থাকে। ২০০৩ সালের ইনিংসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখবেন, অধিকাংশ রান এসেছিল স্পিনের বিপক্ষে, পেসারদের বিরুদ্ধে বেশি রান হয়নি।’
