আফ্রিকার সমর্থন পাচ্ছেন ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করার পরও তীব্র সমালোচনা আর বিরোধিতার মুখে আছেন সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সংকটাপন্ন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন আফ্রিকান ফুটবলের প্রভাবশালী প্রশাসকরা। ফিফা সভাপতি পদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে মহাদেশটির ৫৪টি সদস্য দেশের সমর্থনের ওপর নজর রাখছেন তিনি, আর এমন সময়েই আফ্রিকান ফুটবল কর্তারা তার প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছেন।

এশিয়া, ইউরোপ ও কনকাকাফ ফিফার এই শক্তিশালী কনফেডারেশনগুলো ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা হারানোর কথা জানালেও, কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখেছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে আফ্রিকান দেশগুলোর এই সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য বড় আশার আলো। বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সিএএফের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বাতিল হয়ে যাওয়া ৪.২ বিলিয়ন ডলারের সেই বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বিষয়টি এজেন্ডায় রয়েছে।

ইতিমধ্যে সিএএফের সহসভাপতি এবং মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা, মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হানি আবো রিদা, নাইজারের হামিদু জিব্রিলা এবং মৌরিতানিয়ার আহমেদ ইয়াহিয়ার মতো প্রভাবশালী ফিফা কাউন্সিল সদস্যরা ইনফান্তিনোকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের নতুন সভাপতি ও সিএএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভারোন মোসেঙ্গো-ওম্বা ইনফান্তিনোর পক্ষে বার্তা দিয়েছেন।

আফ্রিকার বহু দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্পন্সরশিপ, পরিকাঠামো এবং সরকারি অনুদানের অভাবে ধুঁকছে। ফলে তারা ব্যাপকভাবে ফিফার অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। ক্যামোরোস ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সাঈদ আলী আথৌমান যেমন বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা অর্থসংস্থান। বর্তমানে আমাদের কোনো স্পন্সর নেই। তাহলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকব কীভাবে? সমৃদ্ধ দেশগুলোর ভালো অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ইউরোপের মতো আমাদের অবস্থা নয়।’

একই সুর প্রকাশ করে মালাউই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফ্লিটউড হায়া জানান, তাদের সরকার হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম জোগাতে হিমশিম খায়, সেখানে ফুটবলে পর্যাপ্ত বাজেট দেওয়া অসম্ভব। মালাউইয়ের এখন অর্থের পাশাপাশি আধুনিক স্টেডিয়ামের প্রয়োজন। বর্তমানে ফিফা তাদের ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ প্রকল্পের আওতায় চার বছরের চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশকে ন্যূনতম ৮০ লাখ ডলার অনুদান নিশ্চিত করে। এই আর্থিক সহায়তাই মূলত আফ্রিকার দেশগুলোতে ইনফান্তিনোর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

১৯৯৮ সালে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার প্রথম আফ্রিকান দেশগুলোকে অনুদান দেওয়ার নীতি শুরু করেছিলেন, যা পরে ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ নামে বহুগুণ বাড়ান। সিএএফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে বিতর্ক তৈরির কিছুদিন আগেই ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করি। তিনি কেবল একজন ভালো বন্ধুই নন, আফ্রিকার প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত। যে মানুষগুলো আপনার প্রতি বিশ্বস্ত থাকে, তাদের পিঠে ছুরি না মারাটাই আমাদের সংস্কৃতি।’