হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে যেতে পারে এমন আশাবাদে মঙ্গলবার (৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সূত্র বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাদের আশা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে।
এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে দাঁড়ায়। উভয় সূচকের দামই ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নেওয়া একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় তেলের বাজার এখনো অস্থির রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ে, কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পেট্রোল ও ডিজেলের খরচও বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, ইরান ও ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যে আলোচনা চলছে, তাতে অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সেটি হবে।'
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মঙ্গলবার কিংবা বুধবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।
তিনি বলেন, 'আজ বা আগামীকাল একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে এবং এই সংঘাত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে এগোবে।'
জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কোনো ধরনের অর্থ আদায় করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, 'এটি হবে অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা।'
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানালেও সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো বা শর্ত সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। বরং ওমানের সঙ্গে বিকল্প একটি নৌ-চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা কাতার জানিয়েছে, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে তারা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা নির্ধারিত নেই।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় সবটাই ব্যবহার করে ফেলেছে বলে বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে।