যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় অগ্রগতির দাবি কাতারের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জানিয়েছে কাতার। এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমে যায়। তবে ইরান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। সূত্র রয়টার্স।

কাতারের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। আগের দিনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনায় তেলের দামে বড় পতন হয়েছিল।

তবে বাস্তবে হরমুজ প্রণালি এখনো প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি 'শেষ সুযোগ'।

কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে কেবল ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ সপ্তাহে কোনো বড় বৈঠকেরও পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উভয়েই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, 'আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সেটি সম্ভব হবে।'

অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে।

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এখন 'খুবই অগ্রসর পর্যায়ে' রয়েছে।

তিনি জানান, কাতার, পাকিস্তান ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তির খসড়া আদান-প্রদানে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'পর্দার আড়ালে অনেক কিছুই ঘটছে। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছি। এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো—দুই পক্ষকে অন্তত আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি করানো।' 

ট্রাম্পের আলোচনার দাবি আসে গত সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর পরিকল্পিত 'বড় ধরনের হামলা' বাতিল করার সিদ্ধান্তের পর। এর আগে তিনি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি গুরুত্ব দেন।