সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসনের প্রস্তুতি জোরদার করতে বছরের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করেছে তাইওয়ান। বুধবার (৫ আগস্ট) শুরু হওয়া বার্ষিক 'হান কুয়াং' মহড়া ১৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। সূত্র এএফপি। 

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মহড়ায় সেনাবাহিনী ও রিজার্ভ সদস্যরা দ্বীপটিতে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন যুদ্ধপরিস্থিতি অনুশীলন করবেন। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদেরও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে বিভিন্ন মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবারের মহড়ায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া, বিমান হামলার সতর্কতা মহড়া এবং বেসামরিক জনগণের জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের মতো কার্যক্রমও রয়েছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই স্বশাসিত দ্বীপকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং সামরিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

চীনা যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ এখন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে মোতায়েন হচ্ছে। পাশাপাশি বড় আকারের সামরিক মহড়াও পরিচালনা করছে বেইজিং। এছাড়া চীনের কোস্টগার্ড তাইওয়ান ও এর উপকূলীয় ছোট দ্বীপগুলোর আশপাশে তথাকথিত 'গ্রে জোন' তৎপরতা বাড়িয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি যুদ্ধ নয়, তবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।

বুধবার মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ান প্রণালির দিকে মুখ করা একটি সৈকতে কয়েক ডজন রিজার্ভ সেনা অবস্থান নেন। চীনা বাহিনী সম্ভাব্য অবতরণ করতে পারে এমন একটি উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্য করে তারা তাইওয়ানে তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর অনুশীলন করেন।

রাজধানী তাইপের একটি স্কুল মাঠে রিজার্ভ সদস্যদের মর্টার লোড করা এবং এম-৪এ১ রাইফেল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি সাবমেরিনসহ নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সময়ে মধ্যাঞ্চলের তাইচুং শহরের সড়কে ভোরের আগে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান চলাচলের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণের কাওশিয়ুং শহরের আকাশে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে।

মহড়া শুরুর আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে আসছি, হান কুয়াং মহড়াকে বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতির আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। যাতে প্রকৃত যুদ্ধে না জড়িয়েও আমাদের ইউনিটগুলো নিজেদের বাস্তব অপারেশনাল সক্ষমতা যাচাই করতে পারে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত