হুথিদের হামলায় লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

হুথি বিদ্রোহীদের বিস্ফোরকবোঝাই নৌকার হামলায় লোহিত সাগরে একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেন সরকার। হামলার পর জাহাজে থাকা ১৪ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনি নাগরিক।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের লোহিত সাগরে চলাচলের সময় হুথিরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি নৌকা দিয়ে ভারতীয় মালবাহী জাহাজটিতে হামলা চালায়। এতে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়।

ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। 

ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ-চলাচল, বাণিজ্যের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলারই অংশ এটি।

ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি পৃথক এক বিবৃতিতে জানান, ভারতীয় জাহাজটি সরাসরি ইয়েমেনের বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এতে ইয়েমেনের মানুষের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্য বহন করা হচ্ছিল।

ইয়েমেন সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোদেইদা শহর থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে হামলার শিকার হয় জাহাজটি। পরে জাহাজে থাকা ১৪ নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনি।

তবে এ হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হুথি গোষ্ঠী।

গত ১৩ জুলাইয়ের পর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইরানের একটি বিমানকে সানার বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দিতে বিমানবন্দরটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলার দাবি করে। একই সঙ্গে সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ এবং সৌদি তেলবাহী কয়েকটি ট্যাংকারে হামলারও ঘোষণা দেয়।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।