পঞ্চগড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নতুন ভবনের উদ্বোধনী ফলকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের নাম পত্রিকার কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ফলকটি থেকে সেই কাগজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেই একই প্রকল্প দ্বিতীয়বার উদ্বোধনের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৭ ও ১৮ জুন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির তার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ জুন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পঞ্চগড় কার্যালয়ের ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য ফলকও প্রস্তুত করা হয়েছিল।
পরে ওই ফলকে সংসদ সদস্যের নাম, উদ্বোধনের তারিখসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পত্রিকার কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ প্রকাশের পর ফলক থেকে কাগজ সরিয়ে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের উদ্বোধনের তথ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) একই এলজিইডি ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ফলে একটি প্রকল্প দুই ভিন্ন সময়ে দুই সংসদ সদস্যের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে কি না এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই প্রকল্পের উদ্বোধন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি পঞ্চগড়ের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম বলেন, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী ভিন্ন সময়ে যে উদ্বোধন করেছেন, সেটি একই প্রকল্প। ৫ আগস্ট প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এর উপস্থিতিতে এলজিইডির নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না, তবে জেনেছি এর আগে ১৮ জুন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরও একই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এলজিইডি পঞ্চগড় কার্যালয়ের ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৭ হাজার ১১৭ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএইচ কর্পোরেশন।