নেত্রকোনায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে কাঠমিস্ত্রি থেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বনে যাওয়া (রিপন ভিডিও) রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সালিসের মাধ্যমে ভুল স্বীকার করায় রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন সালিসকাররা। তবে ওই সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে লুকিয়ে থাকা কিশোরীর পরিবারকে খুঁজে বের করে থানায় মামলা করার ব্যবস্থা করে।
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে সালিস বৈঠকের ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার আপত্তিকর অবস্থায় রিপন ও ওই কিশোরী গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ার পর থেকে দুই দিনব্যাপী বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। অবশেষে সোমবার রাতে বিএনপি, জামায়াতসহ গ্রামের মানুষ সালিস বৈঠকে বসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফেসবুকে পাওয়া ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া কিছুদিন ধরেই নানা কারণে সমালোচিত হচ্ছিলেন। বাবা-মাকে না দেখা, স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেওয়ার মতো অভিযোগের পর এবার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কন্টেন্ট তৈরির ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেললে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ওই পরিবারের উপস্থিতিতে সোমবার রাতে সালিস বৈঠক বসে।
বৈঠকে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে মীমাংসার সময় রিপন ভুল স্বীকার করেন। এ সময় কিশোরীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং রিপনকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন সালিসকাররা।
এরপর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর থেকে রিপন গা-ঢাকা দেন। একই সঙ্গে কিশোরীর পরিবারও আত্মগোপনে ছিল।
মঙ্গলবার সকালে ওই সালিসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে কিশোরীর পরিবারকে পেয়ে থানায় মামলা করার জন্য পাঠানো হয়। তবে রিপনকে খুঁজছে পুলিশ।
অবশেষে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে রিপনকে আটকের চেষ্টা করছে। তিনি পলাতক রয়েছেন। কিশোরীর পরিবারও এক ধরনের আত্মগোপনে ছিল। তাদের খুঁজে বের করে থানায় পাঠানো হয়েছে। কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রিপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।