লুইস ফিগো: 'ইনফান্তিনো নিকৃষ্ট, প্রতারক, স্বার্থপর'

[পর্তুগালের কিংবদন্তী লুইস ফিগো স্পোর্টিং লিসবন, বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানজুড়ে তার বর্ণাঢ্য ক্লাব ক্যারিয়ারে প্রায় ৮০০টি ম্যাচ খেলেছেন। দেশের হয়ে ১২৭টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২০১৭ সাল থেকে উয়েফা ফুটবল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৃটেনের দ্য মেইলে কলাম লিখেছেন ফিফা ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে।]

ফিফা-র সমস্যাগুলোর ওপর আমি ১০,০০০ শব্দ লিখতে পারি। কিন্তু সমাধানটির জন্য মাত্র তিনটি শব্দই যথেষ্ট: ইনফান্তিনোকে অবশ্যই চলে যেতে হবে। 

আমি সারা জীবন ফুটবলকে ভালোবেসেছি। আমি ২০ বছর পেশাদার খেলোয়াড় ছিলাম। এবং বিশ্বাস করুন, খেলার মাঠে আমার সময়ে আমি বেশ কিছু ধূর্ত মানুষের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু গত ১০ দিনে যা প্রকাশ পেয়েছে, তা আমি আমার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট, প্রতারণাপূর্ণ এবং কাপুরুষোচিতভাবে স্বার্থপর আচরণ।

যে মানুষটি এমন কাজ করতে পারে—যে মানুষটি কেবল নিজেকে এবং তার বন্ধুদের সমৃদ্ধ করার জন্য এত বড় পরিবর্তনের জোরপূর্বক চেষ্টা চালাতে পারে—সে খেলার অতীতের এক অবশিষ্টাংশ এবং এর ভবিষ্যতে তার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

যদি এটি এতই ভালো ধারণা হয়ে থাকে, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যখন আপনারা সবাই এক ঘরে ছিলেন, তখন আপনার সদস্যদের এটি জানাননি কেন?  যদি এটি এতই শক্তিশালী পরিকল্পনা হয়ে থাকে, তবে এর সুবিধাগুলোর পাশাপাশি ঝুঁকিগুলোও আপনার সদস্যদের জানাননি কেন? যদি পরিকল্পনাটি জলের মতো পরিষ্কার বা একদম সহজ কিছু হয়ে থাকে, তবে এর বিনিময়ে আপনি বছরে ৩ কোটি ডলারের একটি চাকরি পেতে যাচ্ছেন—এই সত্যটি সম্পর্কে সৎ ছিলেন না কেন?

কিন্তু এর কিছুই করা হয়নি। কারণ এটি কোনো ভালো ধারণা নয়। প্রাইভেট ইকুইটি সবসময় যে ধ্বংসাত্মক লভ্যাংশ খোঁজে, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ হতে ব্যর্থ হলে তা কখনো শক্তিশালী হয় না। 

একবার আপনার অংশ বিক্রি করে দিলে তা চিরতরে চলে যায় এবং বিশ্বকাপের মালিকানা থেকে আপনার উত্তরধিকারীদের বঞ্চিত করা হয়—এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলে তা সাহসী নয়।

এবং ডিসিতে আপনার বন্ধুদের পাতে বিশ্বকাপের মাথাটি তুলে দেওয়ার পর তারা আপনাকে আপনার বর্তমান বেতনের পাঁচ গুণ মূল্যের একটি চাকরি দিতে যাচ্ছে—এই কথাটি উল্লেখ করতে ব্যর্থ হলে তা সততা নয়।

ফুটবলের খ্যাতির ওপর তিনি যে সমস্ত অপকর্ম চাপিয়ে দিয়েছেন, তা বিবেচনা করলে এর কোনোটিই আশ্চর্যজনক নয়; শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত স্থগিত ও প্রত্যাহার করা থেকে শুরু করে হাফ-টাইম শো নিয়ে খেলার আইন ভঙ্গ করা পর্যন্ত—বন্ধুদের খুশি করার পথে কোনো কিছুই তার কাছে বাধা হতে পারে না।

(জর্ডান এফএ সভাপতি) প্রিন্স আলীর মন্তব্য পড়ার পরও এটি আশ্চর্যজনক নয়, যিনি ইনফান্তিনোর ফিফার গ্যাংয়ের মতো আচরণের কথা তুলে ধরেছেন; তার এফএ-র কাজ ও তহবিলকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে যাতে একটি মনোনয়ন পত্র নিশ্চিত করা যায় এবং আত্মস্বার্থের এই ভয়াবহ রাজত্ব বজায় থাকতে পারে।

ফুটবলের অর্থের বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। তবে সেই অর্থের জন্য নয় যা বিনিয়োগকারীদের পেছনে বা প্রশাসকদের স্ফীত বেতনের পেছনে খেলা থেকে চলে যেতে পারে।

আমি সেই অর্থের কথা বলছি যা মাঠ নির্মাণ এবং কোচদের প্রশিক্ষণের পেছনে খরচ করা উচিত, যাতে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর খেলাটির প্রেমে পড়ার সুযোগ থাকে।

শুরু করার জন্য ফিফার রিজার্ভে থাকা ৫ বিলিয়ন ডলারের কথা আমি বলছি। এই নোংরা, গোপন চক্রান্তে সেটি কতগুলো শেয়ার কিনতে পারত? সবকটি! তাই শেষ পর্যন্ত কোনো বাইরের বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজনই নেই।

এই পরিকল্পনাটি—এর আগের সুপার লিগের মতো—এর প্রবক্তারা তাদের বার্তাগুলো ঠিক করার আগেই মিডিয়া এর প্রতিটি কুটিল মোড় উন্মোচন করে দেওয়ায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে এটি হয়েছে।

ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির পদটিকে কলঙ্কিত করেছেন যে পদটিকে তিনি উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যে খেলাটির সেবা করার কথা ছিল, সেই খেলার স্বার্থের বিনিময়ে তিনি মিথ্যা বলেছেন, প্রতারণা করেছেন এবং নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করেছেন।
তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মী, ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং এই খেলায় জীবন উৎসর্গ করা বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন হারিয়েছেন, এমনকি দেখে মনে হচ্ছে ফিফা শান্তি পুরস্কার বিজয়ীও তার সমর্থন হারিয়েছেন।

তার মর্যাদা বাঁচানোর সময় পার হয়ে গেছে কিন্তু ফুটবলকে বাঁচানোর সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তার চলে যাওয়া উচিত। এখনই।