শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫আগস্ট) বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনিক ভবনে মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরফান আলীর সঞ্চালনা ও ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক আশাবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন এবং ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনের কারণ ও চেতনায় ধারণ করতে হবে। কোনো একক দল বা ব্যক্তি নয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগণ এবং গৃহিণীদের অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে।" তিনি ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও এই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধরে রাখার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য ড. বেলাল হোসেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি স্মরণ করেন। বিশেষ করে ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতা, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগের ঘটনা স্মরণ করে তিনি আবেগপ্লাবিত হন। আন্দোলনে শেকৃবির অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই শেরেবাংলা নগর থানায় নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রথম মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষকরা যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন তা তিনি স্মরণ করেন।
অন্যান্য বক্তাদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
স্মরণসভায় বক্তারা অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।পরে আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এবং রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।