একমঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দুই দিন দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ নানা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেন তারা। বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে একমঞ্চে হাজির ছিলেন ছাত্রদল সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শিবির সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ। এতে ক্যাম্পাসের প্রতি তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ফিরে আসছে  মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেতাকর্মীরা জানান, ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসন ছিন্ন করে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সফল করতে সব শ্রেণি-পেশা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবদান রেখেছেন। সেখানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সবার সমান অবদান রয়েছে। এ কারণে সবাই জুলাইয়ের প্রশ্নে তারা এক হয়েছেন।

প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টিকে ‘বেরোবির সৌন্দর্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সোমবারের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরপরই আমরা উদ্ভূত সংকট নিরসনে সবার সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে আমন্ত্রণ জানাই। এবং এটাই ‘ বেরোবির সৌন্দর্য’ যে, দুদিন পর সব ভুলে দুটি সংগঠনই এখানে এসেছে এবং আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে দিকেও আমরা সংগঠন দুটির নেতাদের খেয়াল রাখতে এবং সতর্ক থাকতে বলেছি। তারাও আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. ইমরান খান সৌরভ বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতার রাজনীতিতে আমরা সব সময় আস্থা রাখি। আমরা চাই এখানে সব দল-মতের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পান। তাই সোমবারের শিবিরের আয়োজনে হামলার মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ যেন এখানে বজায় থাকে সে জন্যেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা বিশৃঙ্খলার পক্ষপাতী নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিষয়েও আমরা সমান শ্রদ্ধাশীল।

বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সবসময় স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। এ জন্য সব ভুলে জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা এক হয়েছি। ছাত্রদল এখানে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা দেখতে চায় না। সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের রাজনীতিই এখানে করতে হবে, শিক্ষার্থীরা এটাই চায়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রশিবির বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রদর্শনীর ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক একটি চিত্রকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদল ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন পার্কের মোড়ে দুটি সংগঠনই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে বেরোবিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।