‘কেউ না কেউ একদিন ঠিকই এই রেকর্ড ভেঙে দেবে, আর তার নাম হয়তো বৈভব সূর্যবংশী!’ কদিনের ব্যবধানে কাইরন পোলার্ডকে টপকে বিশ্ব ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির সিংহাসনে বসার পর ঠিক এভাবেই ভারতের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়-বালকের প্রতি ভবিষ্যৎ বাণীর ফুলঝুরি ছোটালেন জস বাটলার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের নতুন পাহাড় গড়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এই ইংলিশ তারকা। আর সেই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ার পরই তার মুখে উঠে এলো সূর্যবংশীর কথা।
দ্য হানড্রেডে ওয়েলশ ফায়ারের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয়ে খরা কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়েন্টস। ম্যাচে ঝড়ো ব্যাটিং করে মারকো ইয়ানসেনের বলে টানা তিন ছক্কা হাঁকানোর পথেই পোলার্ডের ১৪ হাজার ৮০৩ রানের মাইলফলক টপকে যান বাটলার। ৪৯২ ইনিংস খেলে ১৪ হাজার ৮৩৩ রান নিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে সবার ওপরে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন এই ইংলিশ তারকা। পোলার্ডের আগে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের দখলে (৪৫৫ ইনিংসে ১৪ হাজার ৫৬২ রান), যাকে মাস দেড়েক আগে হটিয়ে সিংহাসনে বসেছিলেন পোলার্ড। এবার সেই পোলার্ডকেও পেছনে ফেললেন বাটলার।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এই অনন্য অর্জন নিয়ে বাটলার বলেন, ‘বিশ্বের সবার চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান করা; ভাবতেই বিষয়টি দারুণ রোমাঞ্চকর। কেউ না কেউ একদিন ঠিকই এই রেকর্ড ভেঙে দেবে, আর তার নাম সম্ভবত বৈভব সূর্যবংশী! তবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত।’
মাত্র ১৫ বছর বয়সে এখন পর্যন্ত মোটে ৪০টি ম্যাচ খেলে দেড় হাজারের বেশি রান করা ভারতীয় তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে বাটলারের এই ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরে পোলার্ডকে নিয়ে বাটলার আরও যোগ করে বলেন, ‘গত ম্যাচে আমরা এমআই লন্ডনের বিপক্ষে খেলেছিলাম, ফলে পোলার্ড যখন ডাগআউটে বসেছিলেন, তখন তার রেকর্ডটি টপকে যেতে পারলে বেশ ভালো লাগত। তবে এই তালিকায় অনেক মহান নাম ও বিশেষ খেলোয়াড়রা রয়েছেন, তাই এই অর্জনে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে আয়োজিত বিশ্বকাপের পরই ফর্মহীনতায় ভোগা বাটলারলের টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট কতটা দ্রুত বদলে যায় তা সত্যিই মজার! এক দিন আপনি তারকা, তো অন্য দিন আপনি উপেক্ষিত। কয়েক মাস আগে আমি ফর্মহীনতায় ভুগছিলাম, অথচ শেষ কয়েক সপ্তাহে মনে হচ্ছে ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছি। ক্রিকেট বা জীবনে আপনার সামনে কেবল দুটি পথ খোলা থাকে, হয় আপনি হাল ছেড়ে দেবেন, অথবা নিজের ফর্ম ফিরে পেতে ভেতরে জেদ ও শক্তি রাখবেন।’
এই ম্যাচের আগে ব্যক্তিগত কারণে এইডেন মার্করাম দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ায় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ওঠে বাটলারের কাঁধে। ফিল সল্টের দল নির্ধারিত ১০০ বলে ১৫৫ রানের লক্ষ্য দিলে, ওপেনিংয়ে নেমে তা স্রেফ উড়িয়ে দেন বাটলার ও তার দল। টিম সেইফার্টের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি এবং নিজের ২০ বলের হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে সহজেই জয় তুলে নেয় সুপার জায়েন্টস, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের তিনে তুলে এনেছে।
এদিকে পোলার্ড এই মুহূর্তে কোচিং পেশায় মনোযোগী হলেও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সুবাদে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এই লড়াইয়ে আবারও বাটলারকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মুকুটটা বাটলারের মাথাতেই শোভা পাচ্ছে।