বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে মরক্কোকে বাদ দিতে স্পেনের প্রস্তাব 

সীমান্ত সংকট ও অভিবাসী ইস্যুতে তীব্র উত্তেজনার রেশ এবার গড়িয়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য স্পেনের সংসদের প্রস্তাব পেশ করেছে দেশটির সরকারে থাকা ছোট বামপন্থী দল  'সুমার'।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় ঘটা নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটের পরই মূলত এই বিরোধিতার সূত্রপাত হয়।

গত সপ্তাহে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার মানুষের আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় স্পেনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্টের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে স্প্যানিশ ভূখণ্ডে প্রবেশের এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। যদিও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মরক্কান কর্তৃপক্ষের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে বেশিরভাগ মানুষকে দ্রুত ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে রাবাত। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় রাজনৈতিক দলগুলো।

মরক্কো থেকে স্পেনে প্রবেশকারী অভিবাসীরা স্পেনের সেউতা ছিটমহলে স্প্যানিশ সেনাদের বিতরণ করা পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন, ছবি: এপি

সরকারের ভেতরে থাকা ছোট বামপন্থী দল সুমার-এর ২৬টি আসন থাকলেও ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির জোটে তারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব ভোগ করছে। দেশটির সংসদে একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়ে সুমার দাবি জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসনকে হাতিয়ার করার অভিযোগে মরক্কোর সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি যেন ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ পুনর্মূল্যায়ন করে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম টিভিই-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুমার দলের সংসদ সদস্য ও প্রস্তাবের অন্যতম প্রণেতা নাহুয়েল গঞ্জালেস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মরক্কোর রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না, তারা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য অভিবাসীদের ব্যবহার করছে।’ 

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, ‘আমরা এমন একটি বিশ্বকাপ যৌথ আয়োজনের বিষয় পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি, যা মরক্কোর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। কারণ আমাদের সবার আগে মানবাধিকারকে রক্ষা করতে হবে।’ 

এদিকে স্পেনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ছোট দল 'লিব্রে'র পক্ষ থেকেও পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রো এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেউতা সংকটের পর এই যৌথ বিশ্বকাপ আয়োজনকে 'অস্থিতিশীল ও অসহনীয়' অ্যাখ্যা দিয়ে তারাও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের শতবর্ষী এই ফিফা বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। এছাড়া টুর্নামেন্টের শতবর্ষী ইতিহাসের স্মারক হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের বাইরে ভূরাজনৈতিক এই সংকটের কারণে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের যৌথ আয়োজন এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।