ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে লাঞ্ছিতের চেষ্টা, অশালীন আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষিকা মোছা. পাখি আক্তার জানান, ২০২৫ সালে কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় অশালীন আচরণ করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে শিক্ষক নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন ও মানহানিকর আচরণ করেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকও অভিযুক্তের উগ্র আচরণে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক মোছা. নাছিমা আক্তারের সঙ্গেও তিনি একাধিকবার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, যা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সালিশ করলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট টিফিন বিরতির সময় সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান সহকারী শিক্ষিকা পাখি আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষিকাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং কীভাবে তিনি বিদ্যালয়ে চাকরি করেন ও রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন তা দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। তার চিৎকার শুনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অন্যান্য শিক্ষক ঘটনাস্থলে জড়ো হন। সবার সামনে এভাবে অপমানিত হওয়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে সহকারী শিক্ষিকা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের কারণে তিনি ও তার পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাদের ক্ষতি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজিৎ দেবের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।