উজিরপুরে ১১১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ১৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১১টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ উপজেলার ৬১ শতাংশের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এসব বিদ্যালয়ের ৪০টিতে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব এবং ৭১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

গত পাঁচ দিনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তদারক, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, নথিপত্র সংরক্ষণসহ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও তাঁদের করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের মূল সমন্বয়কারী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উজিরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮১টি। এর মধ্যে ১১১টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব এবং ৭১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিভাবক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ছে। সহকারী শিক্ষকদের একদিকে পাঠদান, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দরকার।

অভিভাবক সদস্য সাইফুল হালদার বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম তদারকিতে দুর্বলতা তৈরি হয়। বিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। ২০১৭ সালে কিছু জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁদের স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে অনেকে অবসর নিয়েছেন, কেউ কেউ মারা গেছেন। নতুন করে পদোন্নতির উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ জনবলসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার বিষয়টি শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রধান শিক্ষকের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত