সিংগাইরে দুধে ভেজাল, পাত্র ফেলে পালালেন ১০ বিক্রেতা

দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে পরীক্ষায় ধরা পড়ল ভেজাল। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামশা বাজারে ল্যাক্টোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে ১০ জন বিক্রেতার দুধে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পানি মেশানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে বাজার কমিটি। ভেজাল ধরা পড়তেই অভিযুক্ত বিক্রেতারা দুধের পাত্র ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে বাজার কমিটির সিদ্ধান্তে প্রায় তিন মণ গাভীর দুধ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে জামশা বাজারের দুধের হাটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি মুহূর্তেই বাজারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও জামশা বাজারে গাভীর দুধের হাট বসে। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে পানি মেশানোর অভিযোগ করে আসছিলেন ক্রেতারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজার কমিটির সভাপতি কুদ্দুস মোল্লা বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেন।

পরে তিনি বাজার কমিটির সদস্য সফিক ও ফারুককে সঙ্গে নিয়ে দুধের বাজারে উপস্থিত হন। সব বিক্রেতাকে দুধের পাত্র এক স্থানে রাখতে এবং কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। এরপর ল্যাক্টোমিটার দিয়ে পর্যায়ক্রমে দুধ পরীক্ষা করা হলে ১০ জন বিক্রেতার দুধে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভেজালের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্ত বিক্রেতারা কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই দুধের পাত্র রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। পরে বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভেজাল মেশানো সব দুধ জনসম্মুখে ফেলে ধ্বংস করা হয়।

জামশা বাজার কমিটির সভাপতি কুদ্দুস মোল্লা বলেন, 'ক্রেতাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। তাই আজ ল্যাক্টোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণা করলে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'