আশুগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ, ঝাড়ু মিছিল

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন। 

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেহেন্দিপুর এলাকায় ইজারা নেওয়ার কথা থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে চর সোনারামপুর গ্রামসহ মেঘনার তীরবর্তী দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এবং বসতভিটা মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান বলেন, “যে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেটি কিশোরগঞ্জ জেলার মির্জাপুর মৌজায়। কিন্তু ড্রেজারগুলো আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর মৌজার নদীতীর থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে বালু উত্তোলন করছে। আমাদের উপজেলার সীমানা প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, পিডিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ থেকে চুয়াচর, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর, তালশহর হয়ে পানিশ্বর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা দুই-এক বছরের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি, তারা যেন ইজারাকৃত এলাকাতেই বালু উত্তোলন করে। আশুগঞ্জ উপজেলার অংশে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জুবায়ের হায়দার বুলু বলেন, মেঘনা নদীর ওপর দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রও এই নদীর তীরে অবস্থিত। অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বক্তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আশুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তিনি বলেন, আশুগঞ্জ মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেডকে আটক করা হয়। পরে তাকে এক লাখ টাকা জড়িমানা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজারগুলো পালিয়ে আমাদের সীমানার বাইরে চলে যায় তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত