স্পেনকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেয়া ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর লড়াইয়ে বড় মোড় এসেছে। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হতেই সুযোগ কাজে লাগাতে আসরে নেমেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা।
প্রথমে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছিল বার্সা দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, তবে ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফুত মারকাতো ও দৈনিক স্পোর্তের দাবি—রিয়ালের চুক্তিটি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
প্রাথমিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চার বছরের চুক্তিতে মৌখিক সম্মতি দিলেও, আর্থিক শর্তাদি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। স্প্যানিশ লিগে ফিরতে তিনি আগ্রহী হলেও যেকোনো মূল্যে রিয়ালে যোগ দিতে রাজি নন।
-
ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের দ্বিধা: শুরুতে বয়স ও ইনজুরি রেকর্ডের কারণে রিয়াল সভাপতি পেরেজ তাকে নিতে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না। তবে বিশ্বকাপে রদ্রির অসাধারণ পারফরম্যান্স ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পর রিয়াল দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়।
-
ট্রান্সফার ফি’র ব্যবধান: ম্যানচেস্টার সিটি রদ্রির জন্য ৭৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করছে। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করতে নারাজ।
সাংবাদিক বেন জেকবস ও টকস্পোর্ট নিশ্চিত করেছে যে, রিয়ালের চুক্তি বিলম্বিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে বার্সেলোনা সরাসরি ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছে এবং শিগগিরই তারা অফিশিয়াল প্রস্তাব পেশ করবে।
ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো জানিয়েছেন, "চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে রদ্রির ওপর নির্ভর করছে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা দুই ক্লাবই সিটিকে প্রায় একই মানের ট্রান্সফার ফি দিতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন রিয়ালের সঙ্গে কথা চললেও এখন বার্সেলোনাও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।"
খেলোয়াড় বিক্রির জোর গুঞ্জনের মাঝেও ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার এঞ্জো মারেস্কা বেশ শান্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, "বড় বড় খেলোয়াড়দের ঘিরে গুঞ্জন থাকবেই, এতে চিন্তার কিছু নেই। রদ্রি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ছিল। প্রতিটি ম্যানেজারই রদ্রিকে দলে চাইবে। তবে আপাতত তার অস্ত্রোপচার ও বিশ্রামের প্রয়োজন, এরপর সে আমাদের সঙ্গেই যোগ দেবে।"
স্পেনে ফেরার পেছনে পারিবারিক ও ক্রীড়াগত কারণ থাকায় রদ্রির সামনে এখন দুটি বড় পথ খোলা। নতুন মৌসুম শুরুর আগেই তাকে বেছে নিতে হবে—সান্টিয়াগো বার্নাব্যু নাকি ক্যাম্প ন্যু!