তীব্র উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং বড় ধরনের রেফারি বিতর্ক ছাপিয়ে মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো। মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিন হিউসেনের লাল কার্ড ম্যাচটির গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।
এই জয়ে দডিয়েগো সিমেওনের দল মূল্যবান তিন পয়েন্ট অর্জন করে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যা টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে দিয়েছে।
বার্সেলোনার নিখুঁত সূচনার কারণে দুই দলের জন্যই ভুলের অবকাশ ছিল অত্যন্ত কম। ফলে ম্যাচের শুরুর মিনিটগুলোতে বেশ সাবধানী ও থমথমে ভাব বজায় ছিল। প্রথমার্ধেই বড় ধরনের রেফারি বিতর্ক তৈরি হয়। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয় যে, কুটি রোমেরো (জুড বেলিংহ্যামের ওপর ফাউল) এবং ক্যাং-ইন লি (ফেদেরিকো ভালভের্দের ওপর ফাউল)-এর মতো খেলোয়াড়দের প্রথমার্ধেই লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্তগুলো সঠিক হলে আতলেতিকোকে ৯ জন নিয়ে খেলতে হতো।
প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে আতলেতিকো সামান্য এগিয়ে থাকলেও (৫৫%) কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথমার্ধে মাত্র ২৩ বার বল স্পর্শ করেন এবং ৮ বার বল হারিয়ে ফেলায় কোনো শট নিতে পারেননি। রিয়ালের পক্ষে প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তটি ছিল ৪১ মিনিটে আর্দস গুলেরের দূরপাল্লার শট, যা রুখে দেন গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক।
বিরতির ঠিক পরেই ম্যাচের সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে যায়। আতলেতিকোর আলেকজান্ডার বায়েনার একটি শট থিবো কোর্তোয়া বাঁচানোর পর আসল ঘটনা ঘটে। বক্সের ভেতরে জিউলিয়ানো সিমেওনকে ফাউল করেন রিয়ালের ডিন হিউসেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে হিউসেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর ফলে রিয়াল মাদ্রিদকে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়।
গ্রিমালদোর নেওয়া পেনাল্টি শট থিবো কোর্তোয়া প্রথমে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে গোল করে আতলেতিকোকে ১-০ তে এগিয়ে দেন। এক জন কম নিয়ে খেলার কারণে রিয়ালকে আক্রমণাত্মক হতে হয়, যা আতলেতিকোকে কাউন্টার অ্যাটাকের সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়। এর মাত্র আট মিনিট পর সিমেওনের চমৎকার পাস থেকে দারুণ এক গোছানো আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জনাথন ডেভিড (২-০)।
হোসে মরিনহো বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করলেও এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যাম নিষ্প্রভ থাকায় গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো ম্যাচের ৭৯ মিনিটে দিওমান্দে অবলাকের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায় ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে ৮৯ মিনিটে বার্নার্দো সিলভার ফ্রি-কিক থেকে আন্তোনিও রুডিগার হেড করে বল জালে জড়ালে স্কোরলাইন ২-১ হয়। শেষ দিকে রিয়াল সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও আতলেতিকোর রক্ষণ দুর্গ ভেঙে সমতা ফেরাতে পারেনি।