নাগরিক প্রতিনিধি দলের নেতারা বলেছেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মোছা যাবে না।’ তারা অভিযোগ করে বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিনিধি দল ঝিনাইদহে ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্য পরিদর্শন ও বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেকে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন।
খবরে প্রকাশ, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু হয়। এ নিয়ে শুরুতে স্থানীয় প্রশাসন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারায় মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ খান, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ‘নাগরিক উদ্যোগের’ প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের বোন রিজিয়া বেগমসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আবু সাইদ খান মুজিবনগরের ঘটনাকে তুলে ধরে সম্প্রতি দেশে ঘটমান এধরনের পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
নূর খান লিটন বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য উপড়ে ফেলা হয়েছে; দুঃখজনক হচ্ছে, প্রশাসনের কেউই এ ব্যাপারে জানেন না!’
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘৭১, ৯০ এবং ২৪ এর মধ্যে কোন বিরোধিতা নাই। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে মানতে চায় না, তারাই বার বার এসব ভাস্কর্যে আঘাত হানছে।’
ফারহা তানজীম তিতিল বলেন, ‘প্রশাসন তাদের লোকজন দিয়ে যত দ্রুত এটা স্থানান্তর করবে—এটি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।’
বক্তারা দ্রুত জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।