ভৈরব পৌরসভা

কাফনের কাপড় পাঠিয়ে কর্মকর্তাকে হুমকি, ৩ কর্মচারী চাকরিচ্যুত

সিসিটিভি ফুটেজ, কুরিয়ার তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে পৌরসভার কর্মরত একটি চক্রের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে কাফনের কাপড় ও প্রাণনাশের হুমকি সংবলিত চিরকুট পাঠানোর ঘটনায় পৌরসভার তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে পৌরসভার অভ্যন্তরে কর্মরত একটি চক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মচারী হলেন— ভৈরব পৌরসভার লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর মো. আল-আমিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং পৌরসভার লাইব্রেরি ইনচার্জ রাকিব হাসান।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ জানান, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং পৌরসভা কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ১৯৯২ অনুসরণ করে অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে ৬ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল হুদা জানান, গত ১৯ জুলাই ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুকের কাছে পাঠানো হুমকি সংবলিত পার্সেলের উৎস অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। কুরিয়ার তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্তে পৌরসভায় কর্মরত একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় মো. ফারুকের স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে আশুগঞ্জের হরিদাস নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এসএ পরিবহনের একটি পার্সেল পাঠানো হয়। পার্সেলটি খুলে ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে না গেলে ‘পরিণতি ভয়ংকর হবে’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মো. ফারুক ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৮৮০, তারিখ ১৯ জুলাই ২০২৬।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পৌরসভার কোনো বেআইনি দাবি ও অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আপস না করায় একটি সুবিধাবাদী চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, দৈনিক হাজিরাভিত্তিক মাস্টাররোলের কিছু কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে মামলা করেছেন। চাকরি স্থায়ীকরণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এটি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা নেই।

পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর কয়েকজন পৌর কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৈরব পৌরসভায় এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় ১৯৫৮ সালে ভৈরব পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ড ও ২৯টি মহল্লা রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, ভৈরব পৌরসভার জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৭ জন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘এ’ ক্যাটাগরির পৌরসভাগুলোর মধ্যে ভৈরব অন্যতম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত