ভিসা-গ্রিন কার্ড আবেদনে কড়াকড়ি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নীতির আওতায় ভিসা, গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন আবেদনের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বা পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া জমা দেওয়া আবেদন সরাসরি বাতিল করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) গত বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই সংশ্লিষ্ট অভিবাসন সুবিধার জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথি বা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স (আরএফই) বা নোটিস অব ইন্টেন্ট টু ডিনাই (এনওআইডি) জারি না করেই আবেদন বাতিল করা যেতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি অভিবাসন সুবিধার আবেদনের ফর্ম ও নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় নথির তালিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আবেদনকারীরা শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দিতে পারবেন। ইউএসসিআইএসের মতে, নতুন নীতিটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি অভিবাসন ব্যবস্থার অখণ্ডতা আরও জোরদার করবে এবং ভিত্তিহীন আবেদন জমা দেওয়া কঠিন করে তুলবে। এতে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির পরিবর্তন হলো। ওই নীতিতে আবেদন অসম্পূর্ণ বা প্রয়োজনীয় প্রমাণের ঘাটতি থাকলেও, তা বাতিলের আগে কর্মকর্তাদের আরএফই পাঠাতে উৎসাহিত করা হতো।

ইউএসসিআইএসের দাবি, আগের নীতির কারণে অসম্পূর্ণ বা গুরুতর ত্রুটিযুক্ত আবেদন অন্যান্য অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটাত। এ ছাড়া কিছু আবেদনকারী কর্মসংস্থানের অনুমতির মতো সংশ্লিষ্ট অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তথাকথিত ‘প্লেসহোল্ডার’ আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেতেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশোধিত নীতির মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আরএফই বা এনওআইডি ছাড়াই আবেদন বাতিলের ক্ষমতা পুনর্বহাল করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের মতে, এ নীতি সংস্থার সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াবে এবং ভিত্তিহীন আবেদন দাখিল ঠেকাতে সহায়তা করবে। নতুন নীতিমালা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বিদ্যমান বিধি বা ইউএসসিআইএসের নীতিতে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকলে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট বা এর পর দাখিল করা কিংবা ওই সময় পর্যন্ত বিচারাধীন থাকা সব অভিবাসন-সুবিধার আবেদনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনা এবং গ্রিন কার্ড তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, তা অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জেলা আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, গত ৩ আগস্ট রাজধানী ওয়াশিংটনের আওতাভুক্ত কলাম্বিয়া জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা এ রায় প্রদান করেছেন। চলতি ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন-বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের নতুন বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এই ৭৫ দেশের নাগরিকরা ‘অপরাধপ্রবণ’, কর্মবিমুখ এবং সরকারি-বেসরকারি সাহায্য-সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব কারণেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।