২০২৪ সালের জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে ছাত্রলীগকে (এখন নিষিদ্ধঘোষিত) নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে যুক্তি-তর্কের শুনানি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তি-তর্কের শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দামের একটি কথোপকথন হয়। আমাদের তদন্ত সংস্থা সেই কথোপকথনের রেকর্ড জব্দ করেছে।’
মোবাইল কল রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে সালাম দিয়ে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন।
ওবায়দুল কাদের জানতে চান ‘কী অবস্থা?’
সাদ্দাম বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ মাত্র শেষ করলাম। আর ওদের (আন্দোলনকারী) প্রোগ্রাম চলতেছে। তিন হাজারের মতো স্টুডেন্ট আছে। তারা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করবে। সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি মনে হয় ঘোষণা করবে। এই দুদিন জনসংযোগ করবে। এরপর তারা আলটিমেটাম দেবে।’ তখন ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘কে?’
জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ওদের পিটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দেও কেন? তোমরা বললে, আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে, কই হালকা হলো?’
জবাবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জামায়াত আজকে বেশি ছিল।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাহলে কী বললা তোমরা? বাস্তবে কী হচ্ছে, জামায়াত মানে? এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে?’
সাদ্দাম বলেন, ‘আজকে স্যার আসছে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ কারণে জমায়েতটা ইয়ে করেছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এইটা কিছু করার নাই?’
সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে আমরা সেটা করতে পারব। শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদের নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে, শাহবাগের দিকে আমরা যেন না যাই। মানে, ওদের মুখোমুখি যেন না হই। এটাই তো বারবার বলতেছিল।’
কাদের জানতে চান, ‘কে বলতেছে?’
সাদ্দাম বলেন, ‘ফোন দিয়েছিল সবাই। আমাদের পুলিশ, প্লাস বিপ্লব দাও যোগাযোগ করেছিল।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিপ্লবের তো এটা বলার কথা না।’
সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশই যোগাযোগ করতেছিল। মুখোমুখি হতে একটু মানা করছিল।’
এ মামলার সাত আসামি হলেন ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক এবং তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।