তিস্তা নদীর ডানতীরের প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ভেন্ডাবাড়ি নামক স্থানে এ ভাঙন শুরু হয়। এতে তিস্তার ডানতীরে অবস্থিত এক নম্বর স্পার বাঁধ ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের মানুষজন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে ভেন্ডাবাড়ি হয়ে বিস্তিন এলাকা প্লাবিত করার শঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গত দুইদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি কমতে শুরু করার মুহুর্তে শুক্রবার সকালে ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় নদী ডানতীর বাঁধে আঘাত আনতে শুরু করে। ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে সেখানে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাউবোর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যারেজ থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত ডানতীর বাঁধের দৈঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ডানতীরে তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় পুরো প্রধান বাঁধ এলাকাটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অপরদিকে পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৯০ মিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এদিন সকাল ৬টায় ৫১ দমমিক ৯৫ ও ৯টায় ৯১ দশমিক ৯৩ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এছাড়া বৃহস্পতিবার(৬ আগষ্ট) রাত ৯টার দিকে তিস্তা নদীর পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০৩ মিটার।
ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, হঠাৎ করে তিস্তা নদী ডানতীরে সরে এসে প্রধান বাঁধে আঘাত আনতে শুরু করে। ১ নম্বর স্পার বাঁধ সহ বিভিন্নস্থানে ধসে পরা শুরু করেছে। এটি বিধ্বস্ত হলে ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের শতশত হেক্টর ফসলি জমি, পাঁচশত পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে প্লাবিত হতে পারে।
ইউপি সদস্য আরও জানান, তিনি ঘটনাস্থলের রয়েছে। এখানে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলছে।
উল্লেখ যে, গত ২২ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হলে, সেদিন পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ও গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নদী ডানদিকে সরে আসায় ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া, ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের বেশকিছু স্থানে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়। এরপর পানি কমতে শুরু করলে ১৪ দিনের ব্যবধানে গত ৫ আগষ্ট তিস্তা নদী ওঠাৎ গর্জে উঠে সকালে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার(৫২ দশমিক ২৮ মিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।