দিক পরিবর্তন করে ডানতীরে সরে আসায় তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি এই তিনটি গ্রাম হাটু পানিতে ডুবে আছে। পাল্লা দিয়ে চলছে নদীভাঙন। তাছাড়া প্রথম দফায় পানি কমার পর আমনের চারা রোপন বরে কৃষক কিন্তু পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে চারাগুলো তলিয়ে গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ওই তিন গ্রামের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, পথঘাট তলিয়ে যায়। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে ওই তিন গ্রামে শতাধিক বসতঘর বিলিন হয়েছে, অসংখ্য ফসলি জমি নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। তবুও ভাঙন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
ভারী বর্ষণে ১৪ দিনের ব্যবধানে আবারও গর্জে ওঠেছে তিস্তা। টানা ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১৫টি চর ও নিম্নাঞ্চলীয় গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ মিমিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, অতিভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ২৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৬টায় নদীর পানি ছিল বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি ২৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি কমতে শুরু করলে বিকেল ৬টায় নদীর পানি কমে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গত ২২ জুলাই সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর পানি কমে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৫৮ মিটার) নিচে নেমে এসেছিল বলেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে নিম্নাঞ্চল কেল্লাপাড়া, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের বিভিন্ন বসতভিটায় পানি প্রবেশ করেছে। এরআগে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই তিন গ্রামের শতাধিক ফসলি জমি ও আমনের চারা তলিয়ে যায়। পানি কমার পর তারা আবারও আমনের চারা রোপন করতে শুরু করেছিল, কিন্তু বুধবার সকালে পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে সেই জমিগুলো আবারও তলিয়ে গেছে।
কেল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে এই তিনটি গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এরপর পানি কমলেও সবাই আর নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। বুধবার সকালে আবার পানি বৃদ্ধি পায়। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে নদী ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউবের বাঁধ টিকবে কি না সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
ছানাতামা গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, বুধবার সকালে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে বানের পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকতে শুরু করে। এতে শতাধিক পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ অংশে টানা বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তার পানি বেড়ে বুধবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। তবে এদিন বিকেল ৬টায় পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে এসে বিপৎসীমার দুই নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি আবারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
