ইনফান্তিনোকে সমর্থন আর্জেন্টিনার, ব্রাজিল কোন দিকে?

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরও চরম সংকটের মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। উয়েফা ও কনকাকাফ -এর কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল আঙিনায় তৈরি হয়েছে চরম মেরুকরণ। তবে এই মহা-বিতর্কের মাঝে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল হেঁটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।

ফিফার পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

উয়েফা ফিফার ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিলেও এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার ঝড় উঠলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ইনফান্তিনোকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেন:

"গত ১০ বছর ধরে ফিফার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ব ফুটবলের বিকাশ এবং একটি স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।"

এএফএ স্বীকার করেছে যে, স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবে কিছু ভুলত্রুটি ছিল। তবে আগামী বছর কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বেই ফুটবলের পথচলা অব্যাহত রাখা উচিত বলে মনে করে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনও  ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

'একলা চলো' নীতিতে বিরুদ্ধে অবস্থান ব্রাজিলের

কনমেবল আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিলেও ব্রাজিলীয় ফুটবল কনফেডারেশনের অবস্থান একদম স্পষ্ট। ফিফার এই বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পরিকল্পনার সরাসরি বিরোধিতা করেছে ব্রাজিল।

সিবিএফ সভাপতি সমীর জাউদ জানান, "আমরা এ বিষয়ে কনমেবলের সঙ্গে আলোচনা করছি, তবে এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই স্বত্ব বিক্রির সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে।"

কনমেবলের অবস্থান

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ফিফা সভাপতির 'একতরফা সিদ্ধান্ত' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা নিয়মকানুনের বাইরে ইনফান্তিনোকে সরানোর কোনো পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করবে না।

  • ইনফান্তিনোর পক্ষে: আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো।
  • ইনফান্তিনোর বিপক্ষে/বয়কটের মুখে: উয়েফা, কনকাকাফ, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং ব্রাজিল।

ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়লেও আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে তিনি নিজের অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পারেন, এখন সেটির ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ।