ইনফান্তিনোর আরেক বিতর্কিত উদ্যোগের পর্দা ফাঁস

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ইউরোপীয় ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টিকারী বিদ্রোহী টুর্নামেন্ট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। ২০২০ সালের অক্টোবরের এক গোপন চুক্তিপত্র অনুযায়ী, বিতর্কিত ‘ইউরোপীয় সুপার লিগ’-এর নাম বদলে ‘ফিফা সুপার লিগ’ রাখার বিষয়ে সরাসরি আলোচনায় জড়িত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো এবং তাঁর প্রশাসন।

এমন এক সময়ে এই নথি ফাঁস হলো, যখন বিশ্বকাপ বিক্রির ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগ প্রকল্প বাতিল করার কারণে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে তীব্র চাপে রয়েছেন ইনফান্তিনো।
 
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন’-এর মাধ্যমে ক্লাবগুলোকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং সুপার লিগের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্তত ১২ বছরের একটি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও যৌথ সংস্থা গড়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাবে টুর্নামেন্টের নাম 'ডব্লিউও১' বা ফিফা সুপার লিগ রাখার সুযোগ রাখা হয় (নথিতে ফিফাকে ছদ্মনাম ডব্লিউও১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়)।
 
ফিফাকে প্রতিযোগিতার একটি বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়, যার মাধ্যমে ফরম্যাট পরিবর্তন, ক্যালেন্ডার সমন্বয়, সংহতি তহবিল বণ্টন এবং সিইও নিয়োগের মতো সিদ্ধান্তগুলোতে ফিফার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকত।
 
ফুটবল সংস্থাসমূহ ও জাতীয় দলগুলোর মতামত তোয়াক্কা না করে বছরে আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইন্ডো কমিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের দুটি উইন্ডোতে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়।
 
প্রস্তাবিত সুপার লিগের সাথে সম্পৃক্ত করে প্রতি বছর তিন সপ্তাহের নকআউটভিত্তিক ‘গ্লোবাল ক্লাব প্রতিযোগিতা’ আয়োজনের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
পুরো প্রক্রিয়ায় ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। ২০২১ সালের এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে যখন সুপার লিগের ঘোষণা ভেস্তে যায়, তখন প্রকাশ্যে ইনফান্তিনো এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার বহু আগেই ফিফা নেতৃত্ব এই কর্পোরেট চাল চালছিল বলে নথিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির সাম্প্রতিক ব্যর্থ চেষ্টা এবং এখন ২০২০ সালের এই ‘ফিফা সুপার লিগ’ নথির প্রকাশ—সব মিলিয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দীর্ঘ ১০ বছরের শাসনকালে ফুটবলকে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও কর্পোরেট শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই উন্মোচিত হলো।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত