গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩ জন, যার মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৮৫০ জন। বুধবার (৬ আগস্ট) জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যম ইউএন নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত এ মহামারিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণগুলোর একটি বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ধারণা, গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার কয়েক মাস আগেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় আরও অনেক বেশি হতে পারে।
কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটির ইতুরি, নর্থ কিভু, সাউথ কিভু, হাউত-উয়েলে এবং ছোপো—এই পাঁচটি প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
গত মাসে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, কঙ্গোতে ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব সম্ভবত জানুয়ারি মাসেই, এমনকি তারও আগে, ইতুরি প্রদেশে শুরু হয়েছিল। গবেষকেরা জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য শনাক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ শনাক্তে বিলম্ব, দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, চলমান সশস্ত্র সংঘাত এবং এই ভাইরাসের ধরন মোকাবিলায় কার্যকর টিকা ও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায়। সে সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজারের বেশি সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।