সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনটা ভারী হয়ে আছে? কিংবা সারাদিনের যেকোনো সময় হুট করেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে, কোনো কিছুতেই মন বসছে না? আপনার এই অহেতুক মনখারাপের পেছনে দায়ী হতে পারে শরীরের এক বিশেষ ‘মন খারাপ করা’ হরমোন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘কর্টিসল’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘স্ট্রেস হরমোন’ নামে পরিচিত।
কর্টিসল হরমোন রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা, শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) সামলানো এবং প্রদাহ কমানোর মতো জরুরি কাজগুলো করে থাকে। তবে ঝামেলা বাঁধে তখনই, যখন মানসিক চাপের কারণে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। আর তখনই শুরু হয় বিষণ্ণতা ও মনখারাপ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু ভুলভ্রান্তি বা বাজে অভ্যাসের কারণে কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যায়।
তবে একটু সচেতন হয়ে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই এই হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সারাদিন ফুরফুরে থাকা সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস রপ্ত করলেই আপনি মুক্ত থাকতে পারেন মানসিক চাপ থেকে। চলুন, জেনে নিই।
শরীরচর্চা
চারদেয়ালের মাঝে প্রথাগত ব্যায়াম অনেকের কাছেই একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই প্রতিদিনের শরীরচর্চা আনন্দদায়ক করে তুলুন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে খোলা হাওয়ায় হাঁটতে বের হন বা সাইকেল নিয়ে ঘুরে আসুন। চিকিৎসকদের মতে, সকালের শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে কিছুক্ষণ হাঁটলে শরীর ও মনে নিমেষেই প্রশান্তি নেমে আসে, যা কর্টিসলের মাত্রা কমায়।
খাবার তালিকায় বৈচিত্র
মন ভালো রাখতে সকালে ডুবোতেলে ভাজা খাবার খাওয়া একদমই উচিত নয়। এমনকি খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাসও স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে সকালে খালি পেটে ভেষজ চা পানের অভ্যাস করুন। পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: কাঠবাদাম, কলা ও টাটকা সালাদ) এবং ট্রিপটোফ্যান যুক্ত খাবার (যেমন: ডিম, কুমড়ার বীজ ও মাছ) খাদ্যতালিকায় রাখুন। এগুলো শরীরে সেরোটোনিন বা মন ভালো করা হরমোন-এর ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রিয় মানুষের স্পর্শ ও সান্নিধ্য
মানসিক চাপ কমাতে অলৌকিকের মতো কাজ করে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্তানকে আদর করে জড়িয়ে ধরুন, জীবনসঙ্গীর হাতে হাত রাখুন কিংবা ঘরের বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশে কিছু সময় শান্ত হয়ে বসুন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালোবাসার মানুষের স্পর্শ শরীর থেকে মানসিক চাপ দূর করতে দারুণ কার্যকর।
মনের কথা প্রকাশ
মনের মধ্যে জমে থাকা অপ্রকাশিত বা চাপা অনুভূতিগুলো অনেক সময় মন ভারী করে তোলে। ভেতরে ভেতরে এই আবেগ চেপে রাখলে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজের বিশ্বস্ত কারো কাছে মনের কথা খুলে বলুন। আর কাউকে বলতে না চাইলে নিজের খাতা বা ডায়েরিতে অনুভূতির কথাগুলো লিখে ফেলুন। এতে মনের ভার অনেকটাই হালকা হবে।
হারিয়ে যাওয়া শখগুলোকে ফিরিয়ে আনা
দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই নিজেদের পছন্দের কাজগুলো ভুলে যাই। মেজাজ ফুরফুরে রাখতে দিনে অন্তত কিছুটা সময় নিজের শখের পেছনে ব্যয় করুন। বই পড়া, রান্না করা, বাগান দেখাশোনা করা, ছবি আঁকা, গান শোনা বা নাচ—যা করতে আপনার ভালো লাগে, তা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করুন।
সূত্র : আনন্দবাজার