বই পরিচিতি

বেড়ালের বই

বিড়াল ভীষণ আদুরে প্রাণী! অধিকাংশ মানুষই বিড়াল ভীষণ পছন্দ করে। আর পছন্দ করে বলেই হয়তো বিড়ালের সব দুষ্টুমি আর উৎপাত চোখে পড়ে না। কিন্তু যে বিড়াল পছন্দ করে না (হ্যাঁ, এমন মানুষও আছে) তার কাছে কিন্তু বিড়াল মূর্তিমান আতঙ্ক। বিড়াল কত যে অত্যাচার করে আর জিনিসপত্র নষ্ট করে তার লম্বা একটা ফিরিস্তি পেয়ে যাবে তার কাছে। আসলে ভালোবাসা এমনই। মানুষ যাকে মন থেকে ভালোবাসে তার কোনো ত্রুটিই চোখে পড়ে না। কথাসাহিত্যিক লীলা মজুমদারও তার বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন ‘বেড়ালের বই’ বইটির মাধ্যমে। বিড়াল নিয়ে তার সারাজীবনের অভিজ্ঞতার একটি মনোরম প্রকাশ এই বইটি। বইটি আয়তনে ছোট। মাত্র চব্বিশ পৃষ্ঠা। রয়েছে সুন্দর সুন্দর সাদাকালো অলংকরণ। বুঝতে অসুবিধা হয় না বইটি তোমাদের জন্যই বিশেষ করে লেখা হয়েছে।

কথাসাহিত্যিক লীলা মজুমদার তার লেখা শুরুই করেছিলেন ছোটদের জন্য সন্দেশে লেখার মাধ্যমে। পরে সত্যজিৎ রায় যখন সন্দেশ পত্রিকাটি আবার শুরু করলেন তখন তিনি সহ-সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিশুসাহিত্যের জন্য তিনি প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন। আনন্দ পুরস্কার, ভারত সরকারের শিশুসাহিত্য পুরস্কার তার মধ্যে অন্যতম। হলদে পাখির গল্প, টং লিং, মনিমালা, টাকার গাছে, সচিত্র টারজান সমগ্র তার লেখা ও অনূদিত কিছু পাঠকপ্রিয় বই।

‘বেড়ালের বই’ লীলা মজুমদার তার শিশুবেলার স্মৃতি দিয়ে শুরু করেছেন। যেখানে পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও একটা ছাইরঙা বিড়াল কীভাবে খুবই গোপনে আশ্রয় পেয়েছিল তার বাড়িতে। শীতের দিনে সে বেচারা একটু উষ্ণতার জন্য লেপের তলে ঢুকে পড়েছিল। তাতে অবশ্য বাড়ির লোকজনের ক্ষতি হয়নি। বরং দুরন্ত সব ইঁদুর বাহিনীকে তাড়িয়ে (অথবা মেরে) মুক্ত করে তাদের বাড়ি। সেই বিড়াল মাছের লোভে পড়ে বাড়িছাড়া হয়। কিন্তু মাছের লোভ ছাড়াও যে সাধুসন্তের মতো বিড়াল হয় সেটি তিনি দেখেন শ^শুরবাড়িতে এসে। এভাবে একে একে তিনি তুলে ধরেছেন নানা রকমের বিড়ালের নানা ঘটনা। বিড়াল মানুষের পাশেই থাকে। বিড়ালের গল্প তাই মানুষের গল্পের সঙ্গে যুক্ত। ‘বেড়ালের বই’ তাই মানুষের মানে তোমার আমার সবার বই হয়ে যায়।