‘তায়কোয়ান্দোকে সাফল্যের ধারায় ফেরাতে চাই’

বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোর জনক বলা হয় তাকে। প্রায় তিন যুগ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন। তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ‘মাহমুদুল ইসলাম রানা’ নামটি। প্রায় দেড় বছর পর ফের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে তায়কোয়ান্দোর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসর সচল করতে প্রত্যয়ী তিনি। রানার সঙ্গে তায়কোয়ান্দোর ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রুবেল

প্রশ্ন : দীর্ঘ ১৮ মাস পর আবার বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ফিরলেন। অনুভূতি কেমন?

মাহমুদুল ইসলাম রানা : অবশ্যই ভালো লাগছে। তায়কোয়ান্দো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। আবার দায়িত্ব পেয়ে মনে হচ্ছে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ পেয়েছি। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই কাজের মাধ্যমে।

প্রশ্ন : আপনাকে বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোর জনক বলা হয়। আবার ফিরে আসার পর আপনার প্রথম অগ্রাধিকার কী?

রানা : আমার প্রথম লক্ষ্য হবে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে চাই। নিয়মিত প্রতিযোগিতা ছাড়া ভালো খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে দুটি স্বর্ণ এবং ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে দীপু চাকমার স্বর্ণ, এই অর্জনের রহস্য কী ছিল?

রানা : সফলতার পেছনে ছিল পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং  খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলাম। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে চাই।

প্রশ্ন : আসন্ন পাকিস্তান এসএ গেমসে লক্ষ্য কী?

রানা : আমাদের লক্ষ্য একটাই, স্বর্ণপদক। প্রতিযোগিতা কঠিন হবে, কিন্তু আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করব। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

প্রশ্ন : বর্তমান জাতীয় দলের শক্তি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

রানা : আমি আশাবাদী। আমাদের প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক এক্সপোজার এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভালো ফল করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন : দীর্ঘদিন ঘরোয়া তায়কোয়ান্দোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এটি কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করবেন?

রানা : আমরা একটি বার্ষিক ক্যালেন্ডার তৈরি করব। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, জুনিয়র ও ইয়ুথ প্রতিযোগিতা, ক্লাব লিগ এবং জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূল থেকেই খেলোয়াড় তুলে আনতে হবে।

প্রশ্ন : অনেক তায়কোয়ান্দোকাকে নিষিদ্ধ করেছে আগের কমিটি। তাদের কী হবে?

রানা : নিষিদ্ধ হওয়া তায়কোয়ান্দোকারা আমাদের খেলোয়াড়। তারা আমাদেরই সন্তান। হয়তো কোনো ঘটনায় তাদের নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তাই বলে তাদের ভবিষ্যৎ তো নষ্ট করা যাবে না। আমি তাদের ফিরিয়ে এনে ফের আন্তর্জাতিক আসরে পরীক্ষিত করে তুলতে চাই।

প্রশ্ন : তায়কোয়ান্দোর অবকাঠামো ও কোচিং ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান?

রানা : কোচদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক  কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। রেফারি ও কর্মকর্তাদের দক্ষতাও উন্নত করা জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণেও আমরা গুরুত্ব দেব।

প্রশ্ন : তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?

রানা : স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তায়কোয়ান্দো আরও ছড়িয়ে দিতে চাই। বয়সভিত্তিক ক্যাম্প ও প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। ভবিষ্যতের জাতীয় দল গড়ে তুলতে এখন থেকেই বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রশ্ন : ফেডারেশনের সবাইকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার বার্তা কী?

রানা : তায়কোয়ান্দো কারও ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটি দেশের সম্পদ। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোকে এগিয়ে নেওয়া।

প্রশ্ন : দেশের তায়কোয়ান্দোপ্রেমী ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

রানা : সবাই ধৈর্য ধরুন এবং তায়কোয়ান্দোর পাশে থাকুন। আমি বিশ্বাস করি, আমরা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণপদক জিততে পারব।  খেলোয়াড়দের বলব, কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।