নাহিদের শূন্যতা দৃশ্যমান

বাংলাদেশ ক্রিকেটের তিন সংস্করণের নিয়মিত মুখ নাহিদ রানা। বিশেষ করে টেস্টে তার অনুপস্থিতি বিশাল শূন্যতা তৈরি করে। সেটা জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে যেমন উপলব্ধি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের, তেমনি আরও বেশি টের পাচ্ছে এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্ট আড়াই দিনে হারেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। সে ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন ডানহাতি গতি তারকা।

তার অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ১৯টি টেস্ট খেলে ৮টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে তরুণ পেসারের খেলা ১২ টেস্টে জিতেছে ৬টি, একটি ম্যাচ ড্র করেছে। তিনি পুরনো বলে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। মাঝের দিকে ব্যাটাররা থিতু হলে ব্রেক-থ্রু এনে দিতে দক্ষ নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তার অভাব ভালোভাবেই টের পেয়েছে সফরকারীরা।

আগামী ১৩ আগস্ট প্রথম টেস্টে অজিদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু চোটের কারণে গোটা সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন নাহিদ। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলে পেস বোলিং বিভাগের লুকিয়ে থাকা কঙ্কাল দৃশ্যমান হচ্ছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে এমনিতেই সুবিধা করতে পারেননি ব্যাটাররা।

মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে কোনোরকমে আড়াইশ পার করেন শান্তরা। এরপর স্বাগতিক তরুণ ব্যাটারদের সামনে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশি বোলারদের। পেসারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৫৬ রানে ২ উইকেট, খালেদ আহমেদ ৫১ রানে ১ উইকেট, এবাদত হোসেন ৬৬ রানে ১ উইকেট ও মুশফিক হাসান মাত্র ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। ব্যতিক্রম ছিলেন হাসান মাহমুদ। একাই ৪ উইকেট নেন তিনি।

তবে তিন দিনের এই ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে হাসান জানান, ইংলিশ কন্ডিশনে কাউন্টি খেলার সুবিধা কাজে লাগান তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো এক ভিডিওতে হাসান বলেন, ‘ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, আয়ারল্যান্ডের যে কন্ডিশন, এখানেও একই রকম কন্ডিশন। আমি দুটোতেই বোলিং করতে অনেক উপভোগ করি এবং চেষ্টা করি যে লাইন মেপে বোলিং করতে এবং সুইং যাতে থাকে, নতুন বলে যেন দ্রুত উইকেট পাই। এমন মানসিকতা নিয়ে বোলিং করেছি এবং চেষ্টা করেছি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।’

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৬৩ রানে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নামা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান তোলে। ২ উইকেটে ৫২ রান দিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন শুরু করে তারা। পরে ১৩৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে। এরপরই প্রতিরোধ গড়েন টিগ উয়াইলি। জেইক ডোরানের সঙ্গে ১৬৭ রানের জুটি গড়েন তিনি।

এই জুটির ব্যাটিংয়ের সময় নাহিদের শূন্যতা উপলব্ধি করেছে বাংলাদেশ দল। একই সঙ্গে স্পিন বিভাগে তাইজুল ইসলামকেও পায়নি সফরকারীরা। আঙুলে চোট পাওয়ায় গতকালও মাঠে নামেননি তিনি। ফিজিও বায়জেদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) আমরা মূল্যায়ন করব।’

তাইজুলের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মুশফিক হাসান। অন্যপ্রান্তে এবাদত-খালেদরাও রান বিলান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন উয়াইলি। ১৩০ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। যদিও দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশি বোলারদের প্রশংসা ঝরল তার মুখে, ‘বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ লাইন-লেন্থে স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলতে আমাকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়েছে এবং সামনে এগিয়ে শট খেলার লোভ সামলাতে হয়েছে।’

প্রথম ইনিংসে ৯২ রানে পিছিয়ে থেকেও সতীর্থদের পাশে দাঁড়ান হাসান, ‘সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, আমরা খুবই ভালো শুরু করেছি এবং বোলাররা খুবই ভালো ভালো লাইনে-লেন্থ মেইনটেইন করে বোলিং করেছে। এখানে কন্ডিশন খুবই ভালো, প্রায় সময় সুইং পাওয়া যাচ্ছে। বোলারদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে, আমরা আসলে সবাই ভালো বোলিং করার চেষ্টা করেছি।’

তবে দিনটা শেষ হয়েছে হতাশা দিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতার ইঙ্গিত। ১৯ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ৬ ও মুমিনুল হকও ৬ রান করে আউট হন। এখনো ৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে আজ শেষ দিনে ব্যাটিং প্রস্তুতি সারতে নামবে সফরকারীরা। তানজিদ হাসান ৭ রানে অপরাজিত আছেন।