মসজিদের পাশে কবর দিলে কি আজাব কম হয়!

আমাদের সমাজে মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার সংস্কৃতি প্রচলিত আছে। অনেকে চান, যতটা সম্ভব আত্মীয়স্বজনকে মসজিদের পাশে কবর দিতে। তারা মনে করেন, মসজিদের আজান, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের সওয়াব মৃত ব্যক্তি পান। 

মৃত ব্যক্তি আজান ও কিরাত শুনতে পান। কিন্তু ইসলামি বিধান মতে, মসজিদের পাশে কবর নির্মাণ করা সৌভাগ্যের বিষয় নয়। মসজিদের পাশে বা আঙিনায় কবর দিলে কবরের আজাব কম হয় বা সওয়াব বেশি পাওয়া যায়—এরকম কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই। 

মৃত ব্যক্তি যদি জীবদ্দশায় সদকায়ে জারিয়া (প্রবাহমান দান) করে গিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যেখানেই সমাহিত হন না কেন, এর সওয়াব পাবেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল স্থগিত হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল ছাড়া—এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়, তিন. এমন নেক (ভালো) সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)

অনেক সময় ব্যক্তি প্রসিদ্ধ হলে মসজিদ ও কবর একাকার হয়ে শিরকের মতো জঘন্য অপরাধের কেন্দ্র হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধবান! তোমাদের আগে যারা ছিল তারা তাদের নবী ও নেক ব্যক্তিদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছিল। সাবধান! তোমরা কবরকে মসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদের এ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করছি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৩২)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মসজিদের পাশে বা আঙিনায় কবর দিলে কবরের আজাব কম হয় বা সওয়াব বেশি পাওয়া যায়—এ রকম কথা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই। 

এটা বলা হয়নি যে, এখানে কবর দিলে বেশি সওয়াব হবে বা কবরের আজাব মাফ হবে। তবে কবরস্থান মসজিদের আশপাশে থাকা ভালো, শুধু একটি বা দুটি কবর নয়। মসজিদের পাশে কবরস্থান হলে মুসল্লিরা নিয়মিত কবর জিয়ারত করতে পারেন। দোয়া করতে পারেন। কিন্তু কবরস্থান দূরে হলে মসজিদের পাশে বা আঙিনায় একটি কবর দেওয়া সুন্নাহসম্মত নয়। সাধারণ কবরস্থানে কবর দেওয়া সুন্নত।’

তিনি বলেন, ‘অহংকারবশত আলাদা করে কবরস্থান করা উচিত নয়। পারিবারিক কবরস্থানগুলো প্রায়ই অহংকারবশত করা হয়। অহংকার ছাড়া পারিবারিক কবরস্থান করতে অসুবিধে নেই। অনেক সাহাবি ও বড় বড় ইমামদের সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কবরস্থানে মানুষ যখন সালাম দেয়, তখন এতে সমস্ত কবরবাসী সম্পৃক্ত হয়ে যায়।’

ইসলামি স্কলার ড. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মসজিদের কাছে কোনো কবরস্থান হবে না। কবরস্থান হবে মসজিদ থেকে আলাদা। সমাজের অনেকে মনে করেন, মসজিদের কাছে কবর দিলে হয়তো মৃত ব্যক্তি মসজিদের সব ফজিলত পাবেন—জিকির, কেরাতসহ সব ইবাদতের সওয়াব তিনি পাবেন। কিন্তু না, তিনি কিছুই পাবেন না।’