মানুষ জীবনে সফল হতে চায়। জ্ঞান, সম্পদ ও সম্মান অর্জনের চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের ভুলগুলো কতটা সংশোধন করছে, পরকালের জন্য কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা নিয়ে খুব কমই ভাবে। অথচ প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের কাজের হিসাব নেওয়া, ভুল থেকে ফিরে আসা এবং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তিকেই প্রকৃত বুদ্ধিমান বলেছেন, যে নিজের হিসাব নিজে নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।
নবীজি (সা.) বলেছেন-
বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের হিসাব নিজে নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে মিথ্যা আশা পোষণ করে। (সুনানে তিরমিজি ২৪৫৯)
হাদিসটিতে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ সাধারণত অন্যের ভুল খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। কে কী করল, কার কোথায় ত্রুটি রয়েছে, এসব নিয়ে অনেকেই সময় ব্যয় করে। অথচ নিজের কাজের হিসাব নেওয়া, ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং নিজেকে সংশোধন করার বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সেই আত্মজিজ্ঞাসার শিক্ষা দিয়েছেন।
নিজের হিসাব নেওয়ার অর্থ হলো, প্রতিদিন নিজের কথা, কাজ, আচরণ ও নিয়তের পর্যালোচনা করা। আল্লাহর নির্দেশ কতটুকু পালন করেছি, কারও অধিকার নষ্ট করেছি কি না, কারও মনে কষ্ট দিয়েছি কি না, অন্যায়ভাবে কোনো সম্পদ গ্রহণ করেছি কি না, এসব বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করা। কোনো ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সংশোধনের চেষ্টা করাই আত্মজিজ্ঞাসার প্রকৃত উদ্দেশ্য।
মহান আল্লাহ বলেন-
হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য সে কী পাঠিয়েছে, তা ভেবে দেখা। (সুরা হাশর ১৮)
এ আয়াত মানুষকে নিজের পরিণতি নিয়ে চিন্তা করতে এবং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয়। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এখানে অর্জিত সম্পদ, সম্মান ও প্রভাব একসময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের নেক আমল তার পরকালীন জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে।
হাদিসের দ্বিতীয় অংশে প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং আল্লাহর কাছে মিথ্যা আশা পোষণকারী ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছা ও কামনাকে প্রাধান্য দিয়ে আল্লাহর বিধান উপেক্ষা করে, অথচ মনে মনে ভাবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, সে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে। আল্লাহর রহমতের আশা অবশ্যই রাখতে হবে। তবে সেই আশার সঙ্গে থাকতে হবে আনুগত্য, তওবা ও সৎকর্ম।
প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি মৃত্যুকে স্মরণ করে, সময়ের মূল্য বোঝে এবং প্রতিটি দিনকে নেক আমলে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। সে জানে, একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জীবনের প্রতিটি কাজের জবাব দিতে হবে।