ক্ষীপ্র গতিতে ছুটে আসা একটি পানির বোতল সজোরে আকস্মিক আঘাত হানে ব্যান্ড তারকা হাসানের গায়ে। কনসার্টে এমন ‘বিচ্ছিরি’ কাণ্ডে তাৎক্ষণিক বিস্ময় প্রকাশ করলেও হাসান এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করেই হয়ত গান থামিয়ে রাখেননি। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে গান চালিয়ে গেছেন তিনি।
এমন এক প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে এভাবে অসম্মান করায় সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগী ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে কনসার্ট শেষে অনেকটা বিনয়ের সঙ্গে হাসান বলেছেন, আমি কিছু মনে করিনি। কিন্তু মুখে এমন বললেও প্রথমবার এরকম ঘটনায় ভেতরে ভেতরে ভীষণ ব্যথিত এই তারকা।
যার প্রতিফলন বোঝা গেল শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তার একটি পোস্টে। সেখানে হাসান নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনো হইনি। বহু বছর ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীত করছি। এই সময়ে বিচিত্র অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা হতে পারে, এমনটা কখনো দেখিনি বা ভাবিনি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে আমার দেশের কোনো শিল্পীই যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। কনসার্টে আসা মানুষের মনে রাখা উচিত, শিল্পীরা এই দেশের, শিল্পীরা সবার। তারা এ দেশের মানুষের জন্যই গান করেন। বিনিময়ে তারা শুধু মানুষের ভালোবাসা চান। কোনো শিল্পীকে এভাবে অসম্মান করা বা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করা উচিত নয়।’
শিল্পীদের দলীয় পরিচয়ে বিচার না করার আকুল আবেদন জানিয়ে আর্ক ব্যান্ডের এই শিল্পী লিখছেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় শিল্পীদের রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়, এটা ঠিক নয়। একজন শিল্পী পাঁচ বা দশ বছরের জন্য শিল্পী নন, তিনি আজীবনের জন্যই শিল্পী। বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে শিল্পীদের গান গাইতে হয়। তাই বলে তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে ফেলে বিচার করা উচিত নয়। শিল্পীরা মানুষকে ভালোবেসে গান শোনান। তাই তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব।’
হাসানের এই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সংগীতাঙ্গনের ছোট-বড় অনেক শিল্পী। তরুণ সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান আক্ষেপ করে মন্তব্যে লেখেন, ‘আমরা এরকমই অশিক্ষিত এবং গন্ড মূর্খ। আমরা গুণীর কদর করতে জানি না ভাইয়া। ক্ষমা করবেন!’