আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।’
শনিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি), যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শনের পরে এ কথা বলেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই টর্চার সেলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেছিল মন্তব্য করে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষকে সেখানে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর অনেক জায়গায় আলামত নষ্ট করা হয়েছে। দেয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তারপরও যেসব আলামত ও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনগত বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেকোনো বিচারকের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনগত এখতিয়ার রয়েছে। ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম, তদন্ত সংস্থার সদস্য, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আসামিপক্ষের আইনজীবী ও তালিকাভুক্ত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউশন দলের সদস্যদের পাশাপাশি সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আমির হোসেন, হামিদুর মিজবাহ, মাহিন ও আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।